খালেদা জিয়া দেশবাসীকে ধৈর্য ধরতে বলেছেন, আজ দেশব্যাপী বিক্ষোভ কাল প্রতিবাদ সমাবেশ
এ রায় রাজনৈতিক সঙ্কট আরও ঘনীভূত করবে : মির্জা ফখরুল
Published : Friday, 9 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 08.02.2018 10:32:51 PM
এ রায় রাজনৈতিক সঙ্কট আরও ঘনীভূত করবে : মির্জা ফখরুলদিনকাল রিপোর্ট : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেয়া কারাদন্ডের রায় জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত ঘৃণার সঙ্গে এই রায়কে প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা মনে করি, এই রায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট আরো ঘনীভূত করবে এবং মানুষের এই বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা চলে যাবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রায়ের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভুয়া ও জাল নথির মাধ্যমে সাজানো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আদালত কর্তৃক সাজা প্রদানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির উদ্যোগে শুক্রবার বাদ জুমা ঢাকা মহানগরসহ দেশব্যাপী সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও বিভিন্ন ইউনিটে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে। এছাড়া আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি  শনিবার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় আদালত কর্তৃক সাজা প্রদানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির উদ্যোগে ঢাকা মহানগরসহ দেশব্যাপী সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও বিভিন্ন ইউনিটে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, অবৈধ সরকার রাজনীতি ও আসন্ন নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য ভুয়া ও মিথ্যা মামলা তৈরি করে বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যেই তা প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ। বিএনপির মহাসচিব বলেন, অবৈধ সরকার আদালতের ওপর ভর করে তাদের নিকৃষ্টতম হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করল। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা যিনি দীর্ঘ ৯ বছর গণতন্ত্রের প,ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন এবং জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, দুইবার বিরোধীদলের নেতা হয়েছেন এবং বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছেন। এই জনপ্রিয় নেতাকে এই গণবিচ্ছিন্ন অবৈধ সরকার রাজনীতি ও আসন্ন নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য ভুয়া ও মিথ্যা মামলা  তৈরি করে নথি তৈরি করে তাকে সাজা দিয়েছে। যা এদেশের জনগণ কোনোদিনই গ্রহণ করবে না। ইতিমধ্যেই তা প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ। আমরা অত্যন্ত ঘৃণার সঙ্গে একে প্রত্যাখ্যান করছি। : অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা এবং ৯ বছরের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। এই রায়কে কেন্দ্র করে সরকার গত তিনদিন ধরে এক যুদ্ধাবস্থা তৈরি করেছে। সরকারই গোটা পরিবেশকে অস্থিতিশীল করেছে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তারা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস করেছে। বেগম খালেদা জিয়া যখন আদালতে যান সে সময়ের ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশনেত্রী আইনের প্রতি এতোটাই শ্রদ্ধাশীল যে, তিনি সব সময় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। গতকালও যখন তিনি এই রায়ের জন্য আদালতে যাচ্ছিলেন তখন স্বতঃস্ফূর্ত যে সমর্থক- নেতা-কর্মীরা তার গাড়ির সঙ্গে এসেছে তাদের ওপরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা চড়াও হয়েছে। সারা শহরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা মোড়ে মোড়ে পাহারা বসিয়েছে। তারা পুলিশের সহযোগিতায় আক্রমণও করেছে দেশনেত্রীর বহরের ওপরে। : বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, চট্টগ্রাম থেকে মহানগর সভাপতি সাহাদাত হোসেনসহ সারাদেশে সাড়ে তিন হাজারের অধিক নেতা-কর্মী গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব। : মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী খুব স্পষ্ট করে বলেছেন, নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, কোনো রকমের কোনো হঠকারী কর্মসূচি দেয়া যাবে না, কোনো রকমের সহিংস কোনো কর্মসূচি দেয়া যাবে না। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করতে হবে, বিােভ করতে হবে। এই কথাটা বরাবরই বলেছেন তিনি। : তিনি বলেন, আমরা আমাদের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানাবো, দেশনেত্রীর শেষ কথা ধৈর্য ধরতে হবে। গণতন্ত্রের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। সেই ত্যাগ স্বীকার করে জনগণের স্বার্থে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারকে ‘কোনো প্রকার উস্কানি’ না দেয়ার আহবানও জানান তিনি। : বিএনপি মহাসচিব বলেন, বুধবার গুলশানে সংবাদ সম্মেলনের আমরা স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দেশনেত্রীর সাথে কথা বলি। তার কাছে আমরা জানতে চেয়েছিলাম যদি রায় আপনার বিপে যায় তাহলে আমাদের পে কী ধরনের কর্মসূচি আমরা দেবো। তিনি খুব স্পষ্ট করে বলেছেন, নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, কোনো রকমের হঠকারী কর্মসূচি দেয়া যাবে না। : সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ নেতৃবৃন্দ। : : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

ভারতীয় মিডিয়া বলেছে, বাংলাদেশে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে। আপনিও কি তেমন আশঙ্কা করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
4608 জন