বকশীবাজারস্থ অস্থায়ী আদালতে যাওয়ার পথে গাড়িবহরে নেতাকর্মীদের ঢল
খালেদা জিয়ার ৫ বছর কারাদণ্ড
Published : Friday, 9 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 08.02.2018 10:32:16 PM
খালেদা জিয়ার ৫ বছর কারাদণ্ডরফিক মৃধা, দিনকাল : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বাকি আসামিদের ১০ বছর করে কারাদন্ড ও দুই কোটি ১০ লাখ করে জরিমানা করা হয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে সাজা ঘোষণার পর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট : মামলায় এ রায় দেন। মোট ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের বিশেষ অংশ পাঠ করেন বিচারক। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও আরো দুই আসামি। : প্রথমেই বিচারক রায়ের প্রসিকিউশনের অভিযোগগুলো পড়ে শোনান। এ মামলায় মোট বিবাদী ছিল ছয়জন। বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলেন, রাজনৈতিক মামলায় রাজনৈতিক রায় দেয়া হয়েছে। মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার সম্পৃক্ততা প্রমাণে ব্যর্থ হলেও তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। : পরিবারের সদস্য ও দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা শুনতে আদালতের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের দোয়া করতে বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশানে নিজের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে বের হন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার বড় বোন, বোনের স্বামী, ভাই শামীম এস্কান্দার, তার স্ত্রী, আরেক ভাই মরহুম সাঈদ এস্কান্দারের স্ত্রী এবং ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর শ্বশুরবাড়ির সদস্যসহ পরিবারের কাছের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।  : দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বাসা থেকে বের হওয়ার আগে তার পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধরতে বলে এসেছেন। সেইসঙ্গে নিজের জন্য দোয়াও চেয়েছেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের বলেছেন, ‘ধৈর্য ধরো, সব ঠিক হয়ে যাবে। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় দেশবাসীর কাছেও দোয়া চান বেগম খালেদা জিয়া। পরে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে এসে হাজির হন বেগম খালেদা জিয়া। : রাজপথে নামলেন মির্জা ফখরুলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে এবার মাঠে নামলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির শীর্ষ নেতারা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে একটার দিকে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে রাজপথে নামেন তারা। এ সময় মির্জা ফখরুল ছাড়াও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, মোহাম্মদ শাহজাহান। বিএনপির এই নেতারা হেঁটে নয়াপল্টন বিএনপির কার্যালয় থেকে কাকরাইল নাইটিঙ্গেল মোড় পর্যন্ত যায়। পরে তারা গাড়িতে করে আদালতের উদ্দেশ্যে রায় শুনতে যান। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব?লেন, বেগম খালেদা জিয়ার যাত্রাপথে নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ জনস্রোতে আওয়ামী লীগ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, বিএনপি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি করছি। সেখানে আওয়ামী লীগ বিশৃঙ্খলা করেছে। মগবাজারের কাছে নেতাকর্মীরা বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরকে এগিয়ে নেবার খবর  জানার পরপরই মির্জা ফখরুলসহ নেতারা কার্যালয় থেকে বেরিয়ে পড়েন। : গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুর রেজ্জাক খান,  ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, ব্যারিস্টার বদরুদোজ্জা বাদল, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম খান, অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান তপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। : অপরদিকে আদালতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মীর নাসির হোসেন,  বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ কাইয়ুম, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন। : পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে প্রতিদিনের মতো আদালতের আশপাশে নেতাকর্মীদের ঢল : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়কে কেন্দ্র করে গুলশান থেকে বকশীবাজার আদালত পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ রাস্তার দুপাশে  দাঁড়িয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অভিনন্দন জানান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নেতাকর্মীদের গাড়ি বহরে যোগ দিতে বাধা দিলেও বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর নাবিস্কো আসলে দলের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায় উপলক্ষে আদালতে যাওয়ার পথ গুলশান, নাবিস্কো, তিব্বত, মগবাজার, কাকরাইল, মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, চানখাঁরপুল ও আদালত প্রাঙ্গণের আশপাশের সড়কে বেগম খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িকে ঘিরে ব্যাপক শোডাউন তৈরি করে ঢাকা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। গতকাল সকাল থেকেই এ সব স্থানে নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। গাড়িবহর সাত রাস্তার দিকে আসলে অপেমাণ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী গাড়িবহরে যোগ দেন। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ‘আমার নেত্রী আমার মা বন্দি হতে দিব না,’ ‘খালেদা জিয়া ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘খালেদা জিয়া এগিয়ে চল, আমরা আছি তোমার সাথে’, ‘জেল জুলুম হুলিয়া, নিতে হবে তুলিয়া’ এ ধরনের অসংখ্য নেতাকর্মীর কণ্ঠে শোনা যায়। গাড়িবহরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সাবেক এমপি রেহানা আক্তার রানু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান, সহ সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, শিরিন সুলতানা, রেহানা আক্তার বানু, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল আলম রবি, আ ক ম মোজ্জামেল হক, আবু নাসের মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, দেবাশীষ রায় মধু, সোহরাব হোসেন, ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহ সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, জিয়া পরিষদের মহাসচিব ডা. এমতাজ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহিল মাসুদ, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা কামাল রিয়াদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল, যুবদল দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাজী আসাদুজ্জামান আসাদ, সহ-সভাপতি আলমগীর হাসান সোহান, নাজমুল হাসান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগ, ওমর ফারুক মুন্না, মেহবুব মাছুম শান্ত, দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মেহেদী তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, উত্তর ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক তানভীর আহমেদ খান ইকরাম প্রমুখ শোডাউনে অংশ নেন। : এ মামলায় বিবাদী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্যরা হলেনÑবিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট এই মামলায় বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, মাগুরার বিএনপির সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।  ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ বেগম খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। এ মামলায় ২৩৬ কার্যদিবসে ৩২ সাীর স্যাগ্রহণ করা হয়। ২৮ কার্যদিবস ধরে আত্মপ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর পর ১৬ কার্যদিবস উভয়পরে (দুদক ও আসামিপ) যুক্তিতর্ক শুনানি হয়। পরে গত ২৫ জানুয়ারি বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান ৮ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। : :  





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

ভারতীয় মিডিয়া বলেছে, বাংলাদেশে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে। আপনিও কি তেমন আশঙ্কা করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
4642 জন