মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দণ্ডাদেশের প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভ
বিভিন্নস্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, গুলিবর্ষণ
Published : Saturday, 10 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 09.02.2018 9:42:45 PM
মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দণ্ডাদেশের প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভমফস্বল ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়ার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় বিভিন্নস্থানে আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও গুলি চালায়। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর : খুলনা : খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে পুলিশ দলীয় কার্যালয় ও তার আশপাশে থেকে ৯ বিএনপি নেতাকে আটক করেছে। আটকৃকতরা হলেন, খুলনা মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্তুজা,খুলনা মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, মহানগর জাসাসের সভাপতি মেহেদী হাসান দিপু,মহানগর বিএনপির দফতর সম্পাদক শামসুজ্জামান চঞ্চল,যুবদল নেতা গাজী সালাউদ্দিন,সাবেক ভিপি মাসুদ আলম,জাহিদুর রহমান রনি, মো: শাহিন উদ্দিন ও হানিফ মাহমুদ। এই রায়কে ঘিরে বেলা ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সাড়ে তিন ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা চলে। এ সময় বিক্ষিপ্তভাবে বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। পুলিশ কয়েক দফা লাঠিচার্জ করে। তার আগে সকাল থেকে পুলিশ কেডি ঘোষ রোডস্থ বিএনপি কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় বিএনপি কার্যালয়ের অদূরে খুলনা সদর থানা মোড়ে এপিসি গাড়ি (আর্মস প্রটেকশন কেরিয়ার), শব্দযন্ত্র গাড়ি ও জলকামান প্রস্তুত রাখে। এছাড়া বিএনপি কার্যালয়ের পূর্ব পাশ খুলনা সদর থানা মোড় ও পশ্চিমপাশে হেলাতলা মোড়ে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকিয়ে দেয়। বেলা ১১টার পর খুলনা মাহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসরাম মঞ্জু দলীয় কার্যালয়ে আসেন। এ সময় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিএনপি’র বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ দলীয় কার্যালয়ে এসে জড়ো হন। বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে বিএনপি কার্যালয়ের পশ্চিম পাশ দিয়ে ২১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের একটি বিক্ষোভ মিছিল হঠাৎ ঢুকে পড়লে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ প্রথমে তাদের আটকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও পরে মিছিলটি কোনো বাধা ছাড়া চলে যায়। এর পর দুপুর ১২টা ৬ মিনিটে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কার্যালয়ে আসেন। তার আগে খুলনা মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম,সাবেক এমপি সেকেন্দার আলী ডালিম, বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম তুহিন, মহানগর যুবদলের সভাপতি মাহবুব হাসান পিয়ারু, ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান মনি, স্বেচ্ছাসেবকদলের খুলনা মহানগর সভাপতি আজিজুল হাসান দুলু, একরামুল হক হেলাল, মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ সুমনসহ প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে বিএনপি কার্যালয়ের পশ্চিম পাশ দিয়ে ঢোকার সময় বিএনপি নেতা সাহারুজ্জামান মোর্তুজা ও জাসাস নেতা মেহেদী হাসান দিপুকে পুলিশ আটক করে। দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে যুবলীগের একটি মোটরসাইকেল মিছিল খুলনা থানা মোড় অতিক্রম করে। বেলা ১টা ৪৮ মিনিটে বিএনপি কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর বেলা ২টা ৩৫ মিনিটে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয়ের প্রবেশদ্বারে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলে নেত্রী আমার মা, বন্দী হতে দেব না,মিথ্যা মামলা মিথ্যা রায়, বেগম জিয়ার মুক্তি চাইসহ বিভিন্ন ধরণের সেøাগান দেন নেতৃবৃন্দ। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে খুলনা থানা মোড়ে পুলিশ ব্যারিকেডের সামনে জেলা বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। একই সময় ক্লে রোড ও কেডি ঘোষ রোডের মোড়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করতে থাকে। তিন দিক থেকে বিক্ষোভ চলতে থাকে। বেলা ২টা ৪৬ মিনিটে খুলনা সদর থানা মোড়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। অপর দিকে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে বিএনপি কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। তবে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি নেতা নজরুল ইসরাম মঞ্জুর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা রাস্তায় বসে পড়েন এবং মিছিল করতে থাকেন। তার আগে বেলা ২টা ৩৮ মিনিটে বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম ও মাসুদ আলমকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। এরপর বেলা ২টা ৪৬ মিনিটে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জুসহ অন্য নেতৃস্থানীয় বক্তব্য দেন। বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপি নেতা নজরুল ইসরাম মঞ্জু বলেন,আমাদের নেত্রী অহিংস আন্দোলনের কথা বলেছেন। নেত্রীর নির্দেশ মেনে আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি। তবে অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে খুলনায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, খুলনায় পাঁচ হাজার বিএনপি কর্মী স্বেচ্ছায় কারবরণ করতে প্রস্তুত আছে। সমাবেশ চলাকালে র‌্যাব-৬ খুলনার ৪টি টহল গাড়ি ও কয়েকটি মটর সাইকেল বহর বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে এবং ৩টা ২৬ মিনিটে সমাবেশস্থলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে। বিকেল ৩টা ৩৯ মিনিটে বিএনপির দিনের কর্মসূচি সমাপ্ত করে বিএনপি। এদিকে সকাল থেকে বিএনপি কার্যালয় ও তার আশে-পাশে উত্তেজনা এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে নগরীর বড় বাজার,কেডি ঘোষ রোড, ক্লে রোড, হেলাতলা মার্কেট, স্যার ইকবাল রোড,পিকচার প্যালেস মোড়, ডাকবাংলা মোড়, জলিল টাওয়ার, আকতার চেম্বারসহ বিভিন্ন বিপনী বিতানের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।  বরিশাল : বরিশাল ব্যুরো জানায়, বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায়ের প্রতিবাদে বরিশালে মহানগর যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে সমাবেশে বরিশাল মহানগর যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান শামীম ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মামুনসহ বিভিন্ন নেতারা বক্তৃতা করেন। নরসিংদী : স্টাফ রিপোর্টার, নরসিংদী জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রায় প্রদানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নরসিংদী জেলা বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বেগম জিয়ার রায় ঘোষণার পরপরই এক ঝটিকা মিছিল বের হয়। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের নির্দেশে সারা শহরের কড়া পুলিশী পাহারাকে উপেক্ষা করে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আঃ রউফ ফকির রনির নেতৃত্বে শহরের চিনিশপুর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে গ্যাস অফিসের মোড়ে এসে শেষ হয়। অপরদিকে শহরের ব্রাক্ষন্দী মোড়ে জেলা যুবদলের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের করতে চেষ্টা করলে পুলিশ নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। নেত্রকোনা : নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা দেয়াকে কেন্দ্র করে নেত্রকোনায় বিএনপির ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে পারলা এলাকায় ঝটিকা মিছিল করে একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও একটি প্রাইভেটকার ভাঙচুর করে। এ সময় গাড়িতে থাকা চালক আহত হন। এর পরপরই ছাত্রলীগ যুবলীগ নেতাকর্মীরা ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক সেলিম আহমেদ খানের বাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে। এদিকে কেন্দুয়া উপজেলার চিরাং সড়কের কাশিপুর মোড় এলাকায় বিক্ষুব্ধ বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে প্রতিবাদ মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ ৪০ রাউন্ড শর্ট গানের রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশ ৬ জন নেতাকর্মীকে আটক করে। পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী কেন্দুয়ায় ৪০ রাউন্ড শর্ট গানের রাবার বুলেট ছোঁড়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি টহল দিচ্ছে। বর্তমানে জেলায় আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অপরদিকে নেত্রকোনার ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণার পর গতকাল বৃহস্পতিবার শহরের কুড়পার-পারলা এলাকায় এক ঝটিকা মিছিল করেছে। এ সময় তারা রাস্তায় থাকা যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং কাউকে আটক করতে পারেনি। রায় ঘোষণার পরপরই পুলিশ নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক অনীক মাহবুব চৌধুরীর সদর পৌরসভাধীন মোক্তারপাড়ার বাসভবনে তল্লাশি চালায়। অপরদিকে জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক সেলিম আহমেদ খানের বাসভবনে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়াও বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। নারায়ণগঞ্জ : স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ জানান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাজার রায় ঘোষনার পর পরই জেলা বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের দায়েরকৃত মিথ্যা একাধিক মামলার আসামি হয়েও ব্যানারে প্রতিবাদ সভা করেছে নেতাকর্মীরা। জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি দলের ভীতিকর উপস্থিতির ফাঁকেই শহরের প্রেসক্লাব সংলগ্ন বালুর মাঠ এলাকায় সংক্ষিপ্ত এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি নেতা শহীদউল্লাহ। প্রতিবাদ সভা থেকে এই রায়কে সরকারের সাজানো ও ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখান করা হয়। টেলিফোনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এই প্রহসনের রায়ে দেশবাসী স্তম্ভিত। আদালতের প্রতি ন্যায়বিচারের যে ক্ষীণ আশাটুকু ছিল আমাদের এই রায়ের মধ্য দিয়ে সেই শেষ চিহ্নটুকুও মুছে ফেলেছে সরকার। এটা ফ্যাসিজমের চুড়ান্ত রুপ। আমরা ঘৃণাভরে এই মিথ্যা রায় প্রত্যাখান করছি। উল্লেখ্য জেলার ৭টি থানায় গত কয়েকদিনে ৮টি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। জেলার বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা গ্রেফতার হওয়ার পর অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও আত্মগোপনে রয়েছেন এবং কয়েক হাজার নেতাকর্মী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এদিকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমায়ের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক সাজা ঘোষণার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ সদরে ও বন্দরে প্রতিবাদ মিছিল করেছে মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীরা। রায় ঘোষণার পরপরই বন্দরে ও না.গঞ্জে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। বন্দরে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৪ ও ২৫ নং ওয়ার্ড ঘুরে এসিআই মিল গেটে এসে মিছিলটি শেষ হয়। এছাড়া সদরের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কের জামতলায় মহানগর যুবদল নেতাকর্মী মিছিল শুরু করলে জামতলা এলাকায় পুলিশ হামলা করে মিছিলটি ছত্রভংগ করে দেয়। প্রতিবাদ মিছিল শুরুর পূর্বে মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সানোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত পথ সভায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহবায়ক নাসিক কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমায়ের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সাজা দিয়ে প্রমান হয়েছে আওয়ামী লীগ আবারো বিনা নির্বাচনে ক্ষমতায় থাকতে চায়। তারা দেশে এক দলীয় শাসন কায়েমের জন্য এই রায় সৃজন করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কবর রচিত হয়েছে। অপরদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাদন্ড দেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা। রায় ঘোষণার সাথে সাথেই নারায়ণগঞ্জ আদালত অঙ্গনে উপস্থিত ফোরাম নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিলটি বের করেন। জেলা আইনজীবী সমিতির গেট থেকে মিছিলটি বের হয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামন দিয়ে প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে এসে মিছিলটি শেষ হয়। মিছিল শেষে আইনজীবী সমিতির সামনে ফোরাম নেতাকর্মীরা এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট আল আমীন সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান খোকা। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মোল্লা, অ্যাডভোকেট আশরাফুল আলম সিরাজী রাসেল, অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক নয়ন, অ্যাডভোকেট রাসেদুল আলম মানিক, অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন মাসুম, অ্যাডভোকেট মাসুদা বেগম সম্পা, অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক শিপলু, অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম মুক্তি, অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম মাসুম, অ্যাডভোকেট শেখ আনজুম আহমেদ রিফাত, অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট লিজা, অ্যাডভোকেট আলী হোসেন, অ্যাডভোকেট আমেনা বেগম শিল্পী অ্যাডভোকেট সায়েম রানা প্রমুখ। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমান অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারের ষড়যন্ত্রের নীলনকশার অংশ হিসেবে আদালত প্রভাবিত হয়ে মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্যান্যদেরকে সাজা প্রদান করেছে। আমরা এই ষড়যন্ত্রমূলক রায় মানি না। বক্তারা অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা থেকে খালেদা জিয়াসহ অন্যান্যদের নিঃশর্ত অব্যাহতি দাবি করেন। অন্যথায় দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। কুমিল্লায় : কুমিল্লা প্রতিনিধি জানায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের প্রতিবাদে কুমিল্লায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের রায় ঘোষণার পর কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতৃত্বে নগরীর কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করে তারা। এসময় তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর। মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আমিন উর  রশীদ ইয়াছিন। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া বলেন, আদালত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের প্রতিবাদে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল করেছে। মিছিলে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের রায়ের পর কুমিল্লায় কোনো ধরনের সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঘটনা ঘটেনি। তবে তারা একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছে বলে জানা গেছে। রাঙ্গামাটি : রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা পরবর্তী তাকে জেলহাজতে প্রেরণের প্রতিবাদে রাঙামাটি শহরের কয়েকটি স্থানে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে দলটির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের রিজার্ভ বাজার ও তবলছড়ি বাজারে এই ঘটনা ঘটায়। ঘটনার পরপরই হামলাস্থলে ছুটে যান রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান। এ সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ উক্ত এলাকার বিভিন্নস্থানে তল্লাশি চালানো শুরু করলে বিক্ষোভকারিরা পালিয়ে যায়। এদিকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারি সদর উপজেলার এসিল্যান্ড এসএম মঞ্জুরুল হক এর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্ভাব্য এলাকাগুলোতে অভিযান জোরদার করেছে। শহরের প্রধান প্রধান এলাকাগুলোতে ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ ক্ষমতাসীনদলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছে। শহরে জেলা প্রশাসনের বিশেষ মোবাইলকোর্ট টিমসহ বিজিবির টহল চলছে। এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটার সময় শহরের তবলছড়ি থেকে রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু সাদৎ মোঃ সায়েমকে আটক করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দীপন তালুকদার। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতায় রাঙামাটির রাস্তায় বিপুলসংখ্যক যৌথবাহিনীর সদস্যকে নামিয়ে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছে, দুপুরের দিকে শহরের রিজার্ভ বাজারের চৌমুহনী এলাকায় বিক্ষুব্ধ কিছু যুবক জড়ো হয়ে আসবাবপত্র জমিয়ে সেগুলোতে অকটেন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ এসে ধাওয়া দিলে বিক্ষোভকারীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর এর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সেøাগান দেয়। এ সময় বন্ধ থাকা দোকানপাটগুলো খুলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালিয়ে যেতে ব্যবসায়িদের প্রতি আহবানও জানিয়েছে সরকারি দলের নেতৃবৃন্দ। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে শহরে মোটরসাইকেল মহড়া দেয় রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন। স্থানীয় জনগণকে অভয় দেয়ার লক্ষ্যেই তার সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুজন। এদিকে গত তিনদিনে রাঙ্গামাটির কয়েকটি উপজেলাসহ শহর থেকে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিকদলসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠনের অন্তত ১৮জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটির রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক দীপন তালুকদার দীপু। ভোলা : ভোলা প্রতিনিধি জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মিথ্যা মামলায় বৃহস্পতিবার দুপুরে সাজা ঘোষণার পর এর প্রতিবাদে ভোলা জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন শহরে বিক্ষোভ মিছিল বেড় করে। শহরের চারদিক থেকে মিছিল বের হয়ে একত্রিত হওয়ার সময় পুলিশ উকিলপাড়ায় ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জ করে। এ সময় অত্যান্ত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়। আহতদেরকে বিভিন্নস্থানে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। : পিরোজপুর : পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের পর পিরোজপুরে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের লাঠি চার্জে আহত হয়েছে ৮ জন বিএনপির নেতাকর্মী। বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পরপরই শহরের শিক্ষা অফিস সড়ক থেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলমীর হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে শহরের প্রবেশের মুখেই পুলিশ বাধা দেয়। পরে পুলিশ মিছিলে লাঠিচার্জ করে মিছিলটি পন্ড করে দেয়। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে ৮ জন বিএনপির নেতাকর্মী আহত হয় বলে জানান পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলমীর হোসেন। এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ে কে কেন্দ্র করে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত ২ দিনে পিরোজপুরে ২৬ জন বিএনপির নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে। ঈশ্বরগঞ্জ : ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সাজাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা বিএনপি। এসময় স্থানীয় আ’লীগের এক দলকর্মী লাঠিশোঠা নিয়ে মিছিলে হামলা চালায়। এতে বিএনপির নেতাকর্মীসহ কমপক্ষে ১০ জন গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ এসে সোহাগী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাসিরুল্লাহ মেম্বারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। জানা যায়, গতকাল খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সাজা হওয়ার সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই ঈশ্বরগঞ্জে সর্বত্রই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। তারা রাস্তায় বের হয়ে প্রতিবাদ মিছিল করে। এসময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ওপর মাইজবাগ এলাকায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করলে স্থানীয় আ’লীগের সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঠা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় আ’ওয়ামী সন্ত্রাসীরা তাদের হাতে থাকা লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে সভাপতি সহ কমপক্ষে ১০ জনকে গুরুতর আহত করে। আহতরা হলো উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম ভূঁইয়া মনি, সোহাগী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাসিরুল্লাহ মেম্বার, সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির, মগটুলা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি রতন গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে বিএনপির নেতাদের ধাওয়া করে আহত নাসিরুল্লাহ মেম্বারকে আটক করে নিয়ে যায়। ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, বিএনপির কিছু নেতাকর্মী মিছিলের চেষ্টা করলে স্থানীয় আ’লীগের নেতাকর্মীরা ধাওয়া দিলে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় নাছিরুল্লাহ নামের এক বিএনপি নেতা আটক করা হয়েছে। রংপুর : স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর অফিস জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে রংপুর মহানগরীসহ পুরো জেলায়। রায়ের পর নগরীর জাহাজ কোম্পানী মোড়ে আওয়ামীলীগের সাথে ছাত্রদলের এবং সিটি বাজারের সামনে যুবদলের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এতে ১০ জন আহত হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে দাড়াতে না পারলেও আওয়ামীলীগ লাঠি নিয়ে মাঠে মিছিল করেছে। রায় ঘোষণার পর বেলা আড়াইটায় জাহাজ কোম্পানী মোড়ে ছাত্রদল নেতা লিখনের নেতৃত্বে একটি মিছিল নগরীর লায়ন্সস্কুলের কাছ থেকে বের হয়ে জাহাজ কোম্পানী মোড়ে যেতে থাকলে সেখানে রায়কে স্বাগত জানিয়ে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তুষারকন্তি মন্ডলের নেতৃত্বে বের হওয়া মিছিলের মুখে পড়ে। এসময় সেখানে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে সেখানে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা, রড, লোহা, বেকিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রদৃশ্যমান করে জাহাজ কোম্পানী মোড়ে অবস্থান নেয়। এসময় জাহাজ কোম্পানী শপিং কমপ্লেক্সের উপর তলায় রংপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক ভরসার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রঙ্গনে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে বিকেল সাড়ে ৪ টায় নগরীর সিটি বাজারের সামনে যুবদলের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করলে তাতে লাঠি চার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুিলশ। দুটি ঘটনাতে ১০ জন আহত হয়েছে।  এর আগে ভোর থেকেই নগরীতে বিপুল পরিমাণ পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব এবং বিজিবির সশস্ত্র মহড়া শুরু করে। এতে নগরীতে আতংক তৈরি হয়। এরই মধ্যে গ্রান্ড হোটেল মোড়ে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত নেতাকর্মীরা আসতে পারলেও ১১টার সময় পুলিশ অফিসে ঢুকতে বাঁধা দেয়। এক পর্যায়ে সেখানে আরমাড পারসোনাল ক্যারিয়াড-এপিসি গাড়ি, প্রিজন ভ্যান আনে পুলিশ। এর আগে বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয় সেখানে।  অফিসের সামন থেকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় রংপুর শ্রমিক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবু। এছাড়াও সকালে নগরীর হুনমানতলা থেকে মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ইমরান সুমমকে গ্রেফতার করে। বেলা ২ টায় রায় ঘোষণার পর পার্টি অফিসে অবস্থান করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেন,জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম মিজু, সহ সভাপতি সুলতানুল আলম বুলবুল, জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সেক্রেটারি রইচ আহমেদ, মহানগর যুবদল সভাপতি নাজমুল আলম নাজু, সেক্রেটারি শামসুল হক ঝন্টু, মহানগর যুবদলের সভাপতি মাহফুজ উন নবী ডন, সেক্রেটারি লিটন পারভেজ, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নুর হাসান সুমন সেক্রেটারি জাকারিয়া ইসলাম জিমসহ কয়েকজন নেতাকর্মী। এসময় মহানগর বিএনপির সভাপতি সাংবাদিকদের জানান, রাজনৈতিকভাবে এই মামলা ও রায় দেয়া হয়েছে। এই মামলা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশ আসবে সে অনুযায়ী আমরা শান্তিপূর্ন কর্মসূচি পালন করবো।  টাঙ্গাইল : স্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল  জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন,সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা প্রদানের প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি এর অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালের নেতৃত্বে শান্তিকুঞ্জ মোড় থেকে বেবীস্ট্যান্ড, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খানের নেতৃত্বে প্রেসক্লাব  এলাকা, জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক একেএম মনিরুল হক ও জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ মনিরুজ্জামান জুয়েলের নেতৃত্বে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে কলেজ গেইট, জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ভিপির নেতৃত্বে নিরালা মোড়ে ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিলে জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহ, যুগ্ম সম্পাদক আবুল কাশেম, যুবদল নেতা মাহমুদ হাসান টিটন, দিপু হায়দার খান, আব্দুল্লাহ শাজাহান, জেলা ছাত্রদল সহ সভাপতি সালেহ মোহাম্মদ সাফি ইথেন, জাহিদ হোসেন মালা, আবেদ হোসেন ইমন, কবির হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, লিঠু খান, গোলাম মোস্তফা, অর্থ সম্পাদক সুমন বাপ্পী, থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সুমন, শহর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইহান ইমন, শহর শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কুড়িগ্রাম : স্টাফ রির্পোটার, কুড়িগ্রাম জানায়, কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ১৯ নেতাকর্মীকে  করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধা থেকে বৃহস্পতিবার  সকাল পর্যন্ত জেলার ৯ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। জেলা পুলিশ সুপারের কন্ট্রোল রুম সুত্রে জানা গেছে, আটককৃ দের  মধ্যে ১৫ জন বিএনপি’র নেতাকর্মী ও ৪ জন জামায়াতের নেতাকর্মী রয়েছে। কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, যে কোন ধরনের বিশৃংখলা ও নাশকতা এড়ানোর জন্য এবং জনজীবনে শান্তি বজায় রাখাসহ আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত থাকবে। এদিকে রায়কে ঘিরে বিপুল সংখ্যক আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে সকাল থেকে অবস্থান নিয়েছে। সকাল থেকে শহরের রাস্তায় টহল অব্যাহত রেখে পুলিশ, র‌্যাবসহ বিজিবি। শহর জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। রাস্তায় কমে গেছে যান বাহনের সংখ্যাও। অপরদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় এর প্রতিক্রিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদল ও যুবদল। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারি এড়িয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে কুড়িগ্রাম মজিদা কলেজের সামন থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে থানাপাড়ায় এসে শেষ হয়। এ সময় মিছিলে নেতৃত্ব দেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নাদিম আহমেদ ,জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আমিমুল ইহসান,সিনিয়র সহ-সভাপতি আল আমিন,যুগ্ম সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রকি,সরোয়ার হোসেন সাওন,সোহেল রানা সহ জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা কর্মীরা। নীলফামারী : নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘোষাণার পর পরই নীলফামারী শহরের ঝটিকা মিছিল বের করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। সকাল থেকে তালাবদ্ধ আর পুলিশ পাহাড়ায় রয়েছে বিএনপি কার্যালয়। তিনটার দিকে শহরের মরাল সংঘ মোড় থেকে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাহেদুল ইসলাম দোলনের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করে কালিবাড়ি মোড়ের দিকে যায়। এসময় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে নেতাকর্মীরা আশপাশের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এসময় বিভিন্ন বাড়িতে তল্লাশি করে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাহেদুল ইসলাম দোলন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আশরাফ আলী ও জেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক আসাদুজ্জামান রিপনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদিকে একই সময় শহরের বাটার মোড় থেকে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ পারভেজ প্রিন্সের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল করে চৌরঙ্গী মোড়ের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ ধাওয়া করলে নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়। এসময় জেলা ছাত্রদলের সাধারণ মারুফ পারভেজ প্রিন্সকে আটক করে পুলিশ। তারাকান্দা : তারাকান্দা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, সাবেক প্রধান মন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহস্পতিবার তারাকান্দায় পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে তাৎক্ষণিক ময়মনসিংহ উঃ জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও তারাকান্দা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদারের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, তারাকান্দা উপজেলার বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছালাম তালুকদার, আব্দুল মান্নান, সাজেদুল করিম খোকন, ইয়াসিন আলী, আব্দুর রাজ্জাক, যুবদলের আহবায়ক আসাদুল হক মন্ডল, যুগ্ম আহবায়ক এস.এম আমিনুল ইসলাম, উলামা দলের যুগ্ম আহবায়ক মাওঃ মোবারক হোসেন, ছাত্রদল নেতা আমীর হাসান স্বপন, আলমগীর হোসেন রকি, জহিরুল ইসলাম আল-আমিন সহ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ। শায়েস্তাগঞ্জ : শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি জানায়,  জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার ৫ বছর ও দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামির ১০ বছর কারাদন্ডের রায় ঘোষণায় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় ইট পাটকেলের আঘাতে কমপক্ষে ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টার দিকে পৌর শহরে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান রিপন, যুগ্ম সম্পাদক ফাহিন হোসেন, শ্রমিকদলের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান টিপুসহ  অনেকই। স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে দাউদনগর বাজার থেকে স্টেশন রোডে যাবার পথে পুলিশ ধাওয়া করে। এসময় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা ধাওয়া দিলে শুরু ইটপাটকের ছুড়াছুড়ি। একপর্যায়ে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।   লোহাগাড়া : লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে দক্ষিণ চট্টগ্রামে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাজপথ জনশূন্য পরিণত হয়েছে। সবাই এক নজরে টেলিভিশন দেখার জন্য ছুটাছুটি করতে দেখা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন রাস্তার মোড়ে মোড়ে অবস্থান ও টহল দিচ্ছে। গত রাত্রে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীর বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ক্রমাগত ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে, সাথে স্থানীয় আওয়ামী নেতাকর্মীরা তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে নানারকম হুমকি ও গালমন্দ করছে বলে সূত্রে প্রকাশ। এ প্রসঙ্গে ২০ দলীয় উপজেলা শীর্ষ নেতা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী দৈনিক দিনকালকে জানান, আমরা কৌশলগতভাবে রাজপত্রে অবস্থান নিয়েছি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কেন্দ্রীয় নির্দেশ মোতাবেক কর্মীদেরকে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। আগৈলঝাড়া : আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মন্ত্রীদের বক্তব্যের সঙ্গে রায়ের হুবহু মিল রয়েছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
7051 জন