বিভিন্নস্থানে ২ শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
Published : Saturday, 10 February, 2018 at 12:00 AM
দিনকাল ডেস্ক : ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় অজ্ঞাতসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। : নারায়ণগঞ্জ : স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ জানান, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুলিশের উপর হামলা করে অরাজগতা সৃষ্টির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৬ কাউন্সিলরসহ ৪৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আরো ১টি মিথ্যা মামলা করেছে পুলিশ। ৮ ফেব্রুয়ারি বন্দর ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক অজয় কুমার পাল বাদী হয়ে বন্দর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। (মামলা নং- ২১(২)১৮ ধারাঃ- ১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫)(ঘ) তৎসহ ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক উপাদানবলি আইন (সংশোধনী/২) এর ৩/৬ দঃবিঃ।) : এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি নাশকতার অপরাধে ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম নবী মুরাদ (৪৮)কে গ্রেফতার করেছে। মামলার অন্যান্য আসামিরা হলো, ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান উদ্দিন ভূইয়া, ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ্ব হান্নান সরকার, ২৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনায়েত হোসেন, ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ সাদরিল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি এলাকার বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন, ২০নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মোঃ শাহিন, ২৩নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মাহাবুব, বিল্লাল হোসেন, ইকবাল হোসেন, একরামপুর কাজীবাড়ী এলাকার বিএনপি নেতা আনিস, বন্দর খানবাড়ী এলাকার বন্দর থানা যুবদলের সহ-সভাপতি সোহেল খান বাবু, স্বল্পেরচক এলাকার বিএনপি নেতা মোঃ আলী ওরফে ব্যাংকার, একরামপুর পৌরসভা এলাকার ছাত্রদল নেতা শাকিল, কদম রসুল মাঠপাড়া এলাকার বিএনপি কর্মী খোকন, একরামপুর ইস্পাহানী এলাকার ছাত্রদল নেতা জনি, মহসিন হোসেন ও আক্তার হোসেন, নবীগঞ্জ কবিলেরমোড় এলাকার যুবদল নেতা নাজমুল হক রানা, বিএনপি নেতা আমান সরদার, ছাত্রদল নেতা সৌরভ, নবীগঞ্জ মাঠপাড়া এলাকার দোলন, কবরস্থান রোড এলাকার সেলিম, আইসতলা কলাবাগ এলাকার ছাত্রদল নেতা মহিউদ্দিন শিশির, নবীগঞ্জ নূরবাগ এলাকার শ্রমিকদল নেতা ইমাম উদ্দিন তোহা, বন্দর ইটালী বিল্ডিং এলাকার মিন্টু, কাজীবাড়ী এলাকার কাজী বাদল, রেলি আবাসিক এলাকার যুবদল নেতা পনির হোসেন ভূইয়া, যুবদল নেতা কাজী সোহাগ, আমিন আবাসিক এলাকার যুবদল নেতা হুমায়ন, সোনাকান্দা এলাকার বন্দর শহর বিএনপি সভাপতি নূর মোহাম্মদ পনেছ, বন্দর থানা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ও দেওয়ানবাগ এলাকার মাজহারুল ইসলাম হিরন, গকুলদাশেরবাগ এলাকার জামায়াত নেতা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউছার আশা, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোস্তাক, লক্ষণখোলা এলাকার স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাইদুর রহমান, চৌরাপাড়া এলাকার বিএনপি নেতা নেসার উদ্দিন, মালিবাগ এলাকার বিএনপি নেতা কালা মনির, সোনাকান্দা এলাকার জামায়াত নেতা কাজী মামুন, সালেহনগর এলাকার যুবদল নেতা পিংকি, দেওয়ানবাগ এলাকার যুবদল নেতা মনির, দেওয়ানবাগ এলাকার বিএনপি কর্মী কাউছার, সোনাকান্দা এলাকার বন্দর থানার বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী শাহেন শাহ, বন্দর কবরস্থান রোড এলাকার বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন সাউদ ও রসুলবাগ এলাকার বিএনপি নেতা আলমগীর। : পুলিশ জানিয়েছে, উল্লেখিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৬ কাউন্সিলরসহ বিএনপি ও জামায়াতের ৪৮ জন নেতাকর্মী ও অজ্ঞাত ৩০/৪০ মিলে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মদনগঞ্জ টু মদনপুর সড়কে রাস্তা গাছ ফেলে রেখে অরাজগতা সৃষ্টির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সংবাদ পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে রাস্তায় ফেলার গাছ সরানোর কথা বলে। ওই সময় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে এক পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা আরো উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে। এ ব্যাপারে বন্দর থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা রুজু হলে ডিবি পুলিশ রাতে এ মামলার ৩নং এজাহারভুক্ত আসামি কাউন্সিলর গোলাম নবী মুরাদকে গ্রেফতার করে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে প্রেরণ করে। : গফরগাঁও : গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও পাগলা থানা পুলিশ বিএনপি ও জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের। গফরগাঁও ও পাগলা থানা বিএনপি ও জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো অর্ধশতাধিক জনের নামে বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। : গফরগাঁও থানা পুলিশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবি সিদ্দিকুর রহমানসহ ছাত্রদল, পৌর যুবদল, উপজেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও বিএনপি অঙ্গসংগঠন এবং জামায়াত নেতাসহ ২৩ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে গফরগাঁও থানার এস.আই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার গফরগাঁও-ভালুকা সড়কের হাঁটুরিয়া শাহজাহানের ইটভাটার সামনে এ ঘটনাটি ঘটে। অপরদিকে পাগলা থানার পুলিশ এস.আই রবিউল আউয়াল বাদী হয়ে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, জামাতসহ ২৬ নেতাকর্মীর নামে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি দায়ের করেন। অজ্ঞাত মামলার আসামি ২৬/৩০ জন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভালুকা-গফরগাঁও রোড হাঁটুরিয়া নামক স্থানে ও পাগলা-পাঁচবাগ সড়কে এক দলভুক্ত উচ্ছৃঙ্খল জনতা বেআইনি জনতাবদ্ধ দাঙ্গা সৃষ্টি ও সরকার বিরোধী স্লোগান দিয়ে রাস্তায় যানবাহন ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ এবং নাশকতামূলক কর্মকান্ড করার বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। : পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কালো স্কটেপ মোড়ানো দুইটি তাজা ককটেল, লাল স্কটেপে মোড়ানো একটি পেট্রল বোমা ও বিস্ফোরিত পেট্র্রল বোমার সদৃশ্য সংগ্রহ করে। : এ সময় পুলিশ গাড়ি থামালে আসামি গ্রেফতারের প্রস্তুতি নিলে আসামিরা পালিয়ে যায়। গফরগাঁও থানার ওসি মো. আব্দুল আহাদ খান বলেন, আসামিদের ছোঁড়া পেট্রল বোমাটি বিস্ফোরিত হয় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে। পাগলা থানার ওসি মুখলেছুর রহমান আকন্দ বলেন, পাগলা থানার পুলিশ গলাকাটা বাজারে গত মঙ্গলবার ভোর ৬.০৫ ঘটিকার সময় ঘটনাস্থল পাঁচবাগ মোড়ে রাস্তার উপর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পুলিশ উপস্থিত হলে কয়েকজনকে গ্রেফতার ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। : ধর্মপাশা : ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় পুলিশের উপর বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মীর নামে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। : বৃহস্পতিবার রাতে ধর্মপাশা থানার এসআই জহির বাদি হয়ে উপজেলা বিএনপির একাংশের সাধারণ সম্পাদক আলী আমজাদসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করে থানায়  মামলাটি দায়ের করেন। : ধর্মপাশা থানার ওসি সুরঞ্জিত তালুকদার জানান, বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণার পরপরই ওই দিন বিকেলে ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির একাংশের সাধারণ সম্পাদক আলী আমজাদের নেতৃত্বে শতাধিক বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মী উপজেলা সদরের কলেজ রোড, হলিদাকান্দা ও দশধরী এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলসহ রাস্তায় পিকেটিং করতে থাকে। তখন পুলিশ তাদেরকে বাধা দিতে গেলে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর হামলা চালায়। এসময় তাদের ইট-পাটকেলের আঘাতে থানার এএসআই হামীম, কনস্টেবল পলাশ ও কনস্টেবল হুমায়ুন কবীর আহত হন। পরে পুলিশ শর্ট গানের ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। : এ ঘটনায় ওই রাতেই এসআই জহির বাদী হয়ে থানায় এ মামলাটি দায়ের করা হয় এবং : যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা সামাল দিতে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে পাশাপাশি আসামিদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মন্ত্রীদের বক্তব্যের সঙ্গে রায়ের হুবহু মিল রয়েছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
7055 জন