ঢাকায় যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন
Published : Saturday, 10 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 09.02.2018 11:11:28 PM
ঢাকায় যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনদিনকাল রিপোর্ট : রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন দু’দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ শনিবার কক্সবাজার থেকে মিয়ানমার সফরে যাবেন। : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করেন বরিস জনসন। তারপর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরে রোহিঙ্গা ইস্যু এবং যুক্তরাজ্য সরকার কর্তৃক বাংলাদেশের কার্গোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া তার সফরে ব্রেক্সিট ও ভিসা সংশ্লিষ্ট বিষয়াদিও গুরুত্ব পায়। : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সফরে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যু এবং ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্য সরকার কর্তৃক বাংলাদেশের কার্গোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বরিস জনসন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পও পরিদর্শন করবেন। একসঙ্গে বেধে রাখা মিয়ানমারের ১০ মুসলিম রোহিঙ্গা দেখছেন, তাদের প্রতিবেশী বৌদ্ধরা একটি খবর খুঁড়ছেন। কিছুক্ষণ পরেই সেই কবরে ঠাঁই হলো তাদের। গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর সকালের কথা। বৌদ্ধ গ্রামবাসী অত্যন্ত দুজনকে কচুকাটা করলেন। বাকিরা মিয়ানমার সেনাদের গুলিতে নিহত হন। শুক্রবার মার্কিন সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। : এক কবরে ১০ রোহিঙ্গা, বললেন সো চাই নামে এক সাবেক সেনাসদস্য। তিনি ওই কবর খুঁড়তে সহায়তা করেছিলেন। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো বৌদ্ধ গ্রামবাসী রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে, মুসলমানদের হত্যা করে তাদের লাশ পুঁতে ফেলার কথা স্বীকার করেছেন। সো চাই বলেন, সেনারা প্রতিটি মুসলিম রোহিঙ্গাকে দুই থেকে তিনবার করে গুলি করেছে। যখন তাদের কবরে রাখা হয়, তখনও তাদের কারো কারো মুখ থেকে শব্দ বের হচ্ছিল। মিয়ানমারের উপকূলীয় গ্রাম-ইন দিনের এই হত্যাকান্ড রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূলের চরম নিষ্ঠুর অধ্যায়গুলোর মধ্যে একটি। কেবল উগ্রপন্থী বৌদ্ধরাই নন, ইন-দিনে ১০ রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞে যে দেশটির সেনা ও আধা-সামরিক পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও জড়িত ছিলেন, তার প্রমাণ মিলেছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ভাষ্যেও। বয়স্ক এক বৌদ্ধ গ্রামবাসী রয়টার্সকে তিনটি আলোকচিত্রও দিয়েছেন, যাতে ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়  সৈন্যদের হাতে ধরা পড়া থেকে শুরু করে পর দিন সকাল ১০টায় রোহিঙ্গাদের হত্যাকান্ড পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য মুহূর্তের ছবিও আছে। : এ তদন্তের সূত্র ধরেই মিয়ানমারের পুলিশ বার্তা সংস্থাটির দুই প্রতিবেদক ওয়া লোন এবং কিয়াও সোয়ে ও’কে রাখাইন সংশ্লিষ্ট গোপন নথি হাতানোর অভিযোগে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর গ্রেফতার করে। এর মাসখানেক পর ১০ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে ইন দিনে ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যার খবর নিশ্চিত করা হয়। অন্যদিকে বৌদ্ধ গ্রামবাসী বলছেন, ইন দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বিদ্রোহীদের অনেক সদস্য মিলে আক্রমণের ঘটনাই ঘটেনি। উল্টো সেনারাই কাছাকাছি একটি সমুদ্রসৈকতে আশ্রয়ের জন্য যাওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে ১০ জনকে তুলে নিয়ে হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ছয় লাখেরও বেশি মানুষ। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ আখ্যা দিয়েছে। রাখাইনের সহিংসতাকে জাতিগত নিধন আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মন্ত্রীদের বক্তব্যের সঙ্গে রায়ের হুবহু মিল রয়েছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
7014 জন