পেয়ারার বাগানে ফ্রুটব্যাগ হিসেবে নিষিদ্ধ পলিথিন!
Published : Sunday, 11 February, 2018 at 12:00 AM
পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে : সেলিম সানোয়ার পলাশ, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) থেকে : বরেন্দ্র অঞ্চলের পেয়ারার বাগানগুলোতে ফ্রুটব্যাগ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন। পেয়ারায় ব্যবহৃত নিষিদ্ধ পলিথিন যত্রতত্র ফেলে দেয়ায় প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে নোংরা হচ্ছে পরিবেশ। পেয়ারা চাষে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। ফ্রুটব্যাগ হিসেবে ব্যবহৃত পলিথিন পেয়ারার সঙ্গে সঙ্গে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন বাজারে। এমনকি বাজারগুলোতে নিষিদ্ধ পলিথিন মোড়ানো আকর্ষণীয় রংয়ের পেয়ারা বিক্রি হতে দেখা যায়। এতে করে সহজেই আকৃষ্ট হচ্ছেন ক্রেতারা, বিক্রিও হচ্ছে ভালো। পলিথিন ফ্রুটব্যাগ হিসেবে ব্যবহার করায় ফ্রুটফ্লাইসহ বিভিন্ন ছত্রাক আক্রমণ থেকে রক্ষা পাচ্ছেন পেয়ারা চাষীরা। পাশাপাশি পেয়ারার রং আকর্ষণীয়, মান ও ফলন ভালো পাচ্ছেন। রাসায়নিকের ব্যবহার কম হচ্ছে। যার ফলে পেয়ারা চাষীরা পেয়ারার বাগানে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নিষিদ্ধ পলিথি অবাধে ব্যবহার করছেন। পেয়ারার কুঁড়ি আসার প্রায় ১০ দিন পর ফ্রুটব্যাগ হিসেবে পরানো হয় পলিথিন। এতে রাসায়নিকের ব্যবহার কমলেও পরিবেশের ক্ষতি হওয়ায় হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ।  পরিবেশ রক্ষায় এর বিকল্প নিয়ে ভাবছেন ফল গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতিতে স্বাভাবিকভাবে পলিথিন নষ্ট হয় না। অথচ পেয়ারায় ব্যবহারের মাধ্যমে নিষিদ্ধ পলিব্যাগ ছড়িয়ে পড়ছে প্রকৃতিতে। লাভজনক হওয়ায় পেয়ারা বাগানগুলোতে দিন দিন বাড়ছে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার। দেশের বিভিন্ন স্থানে গোপনে উৎপাদিত পলিথিন ছড়িয়ে পড়ছে বরেন্দ্র অঞ্চলে। তাই ফ্রুটব্যাগ হিসেবে ব্যবহৃত পলেথিনের বিকল্প এখনি ভাবতে হবে। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, পাঁচ বছরে এ অঞ্চলে ২২ লাখ ৬০৭ টন পেয়ারা উৎপাদন হয়েছে। এতে ফ্রুটব্যাগ হিসেবে ৮২৩ কোটি পিস পলিব্যাগ ব্যবহার হয়েছে। এর মধ্যে এ মৌসুমে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি পলিব্যাগ ব্যবহার হয়েছে। পাঁচ বছরে রাজশাহীতে পেয়ারা চাষ বেড়েছে ৪ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে। এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪১০ হেক্টর, নওগাঁয় ১১৬ হেক্টর এবং নাটোরে ১৪২ হেক্টর পেয়ারা চাষ বেড়েছে। লাভজনক হওয়ায় পেয়ারার বাণিজ্যিক চাষে ঝুঁকছেন এ অঞ্চলের শিক্ষিত বেকার যুবকরা। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি হেক্টর জমির পেয়ারা গাছে প্রায় ৯০ হাজার পলিথিন ফ্রুটব্যাগ ব্যবহার করা হয়। মাঠ থেকে পেয়ারার সঙ্গে অধিকাংশ পলিথিন বাজারে চলে যায়। কয়েকজন পেয়ারা চাষীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১ বিঘা জমিতে প্রায় ১৫০ থেকে ১৬০টি পেয়ারা গাছ লাগানো হয়। কুঁড়ি আসার প্রায় ১০ দিন পর পলিথিনের ফ্রুটব্যাগ পরানো হয়। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

ভারতীয় গণমাধ্যম বলেছে, এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে আ’লীগ হেরে যাবে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
4999 জন