বাংলাদেশে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাজ্য
Published : Sunday, 11 February, 2018 at 12:00 AM
দিনকাল রিপোর্ট : ঢাকায় সফররত ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচন দেখতে চায় ব্রিটেন। একই সঙ্গে মুক্ত গণমাধ্যমের উপস্থিতিও আশা করে তার দেশ। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে তার বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। শুক্রবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘পদ্মা’য় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। : এ সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকসহ অন্যরা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ভূমিকা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। বরিস জনসন বলেন, ‘অন্যক্ষেত্রে (মিয়ানমার) এ নিয়ে কীভাবে কাজ করা যায় তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভাবতে হবে। আমরা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাকর প্রত্যাবাসন দেখতে চাই।’ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিলেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। এর আগে সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন। মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে বরিস জনসনের প্রেস সচিব বলেন, বরিস জনসন দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরও জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এর সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকেই উদ্যোগী হতে হবে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পর তাদের দেখভালের জন্য জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাকে অনুমতি দিতে হবে। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধরনের বোঝা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে মিয়ানমারের দশ লাখের বেশি নাগরিককে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নেয়া প্রয়োজন। তারা এখানে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ইহসানুল করিম আরও বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যাকে ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনে ঘটে যাওয়া অনুরূপ একটি ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেছেন বরিস জনসন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, তখন ছয় লাখ লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। তিনি রোহিঙ্গাদের জীবন বাঁচাতে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং মর্যাদার সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে নিতে শেখ হাসিনার অবস্থানের প্রশংসা করেন। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. নজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকায় আসেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। ১০ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফরে এলেন। এরপর ব্রিটিশ এই মন্ত্রীর মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড সফর করার কথা রয়েছে। : এদিকে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে ব্রিটেন কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন।  গতকাল শনিবার বিকেলে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।  ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে আছে ব্রিটেন। রোহিঙ্গারা যেন নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করছে ব্রিটেন সরকার। দুপুর পৌনে ২টার দিকে জনজন উখিয়ার কুতুপালংয়ে জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনের (ইউএনএইচসিআর) ট্রানজিট সেন্টারে যান। সেখানে তিনি আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরে যান। সেখানে তিনি জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (এইএনএফপিএ) পরিচালিত শিশুবান্ধব কেন্দ্রে শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটান। পরে বরিস জনসন রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত ইউএনএইচসিআর ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাসহ (আইওএম) বৈশ্বিক বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এর আগে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোয়া ১২টার দিকে প্লেনযোগে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পৌঁছান। রোহিঙ্গাদের দেখতে নানামুখী এসব কর্মসূচির পর বিকেলেই তিনি ঢাকা ফেরেন। গত বছরের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞ শুরু হলে তা থেকে বাঁচতে লাখো রোহিঙ্গা পালিয়ে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে। বিভিন্ন সংস্থার হিসাবমতে, ওই দমন-পীড়নের মুখে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি। শুরু থেকেই এ রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের পাশাপাশি তৎপর ব্রিটেন। বরিস জনসন বাংলাদেশ সফরে এসে রোহিঙ্গাদের দেখে এই অবস্থানই পরিষ্কার করলেন আরেকবার। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

ভারতীয় গণমাধ্যম বলেছে, এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে আ’লীগ হেরে যাবে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
4970 জন