খালেদা জিয়াসহ নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দিন : বিএনপি
বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের বৈঠক অনুষ্ঠিত
Published : Sunday, 11 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 10.02.2018 11:14:24 PM
খালেদা জিয়াসহ নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দিন : বিএনপিদিনকাল রিপোর্ট : অবৈধ সরকার তাদের একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করার জন্যে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় পাঁচ বছরের সাজা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। দেশনেত্রীকে মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দেয়ার প্রতিবাদে সমগ্র দেশ আজকে ধিক্কার দিয়েছে। প্রতিবাদ জানিয়েছে। আমরা দেশবাসীকে সেজন্য ধন্যবাদ জানাই। যে সমস্ত দলের নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন তাদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। এবং সকল নেতাকর্মী যারা বাধা নিষেধ নির্যাতনকে উপেক্ষা করে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছে তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। : মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার জন্য মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে। এই সভায় সরকারের এহেন কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। এবং অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেয়ার জন্য আহবান জানানো হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।  এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। : তিনি বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা শহরে এবং সারাদেশে এই অনৈতিক অবৈধ সরকার অত্যাচার-নিপীড়নের যে স্টীম রোলার চালিয়েছে, নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছে, নির্যাতন করেছে তারও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। এবং অবিলম্বে যে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে করা হয়েছে, তাদের মুক্তি দেয়ার জন্য এবং যে সমস্ত মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে সেগুলো প্রত্যাহার করার জন্য জোর দাবি জানানো হয়েছে। : তিনি জানান, আপনারা সবাই জানেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় থেকে শুরু করে সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অবিলম্বে তাদের মুক্তি দাবি করা হয়েছে। : বিএনপি মহাসচিব বলেন, সভায় আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যিনি এখন লন্ডন থেকে দায়িত্ব পালন করছেন তারেক রহমান সাহেব তার বক্তব্য টেলিফোনের মাধ্যমে জানিয়েছেন। তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণের জন্য নিরপেক্ষ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। : তিনি আরো বলেন, আমাদের ৫ জন সিনিয়র আইনজীবী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট আবদুর রেজ্জাক খান গতকাল কারাগারে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন। বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ সলিটারি কনফারমেন্টে রাখা হয়েছে, এবানডান্ড যে কেন্দ্রীয় কারাগার ছিল যেখানে কেউ বাস করে না এবং ঘরবাড়ি স্যাঁতসেঁতে গেছে, সেই কারাগারে সম্পূর্ণ একা প্রিজনার হিসেবে রাখা হয়েছে। শুনলে আপনারা বিস্মিত হবেন, ব্যথিত হবে সমগ্র জাতি তাকে এখন পর্যন্ত কোনো ডিভিশন দেয়া হয়নি। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা তারা গ্রহণ করেনি। তিনি তো ৭৩ বছরের একজন বয়স্ক মানুষ। তার যে সর্বক্ষণিক পরিচারিকা জেল কোডের মধ্যে রয়েছে সে সার্বক্ষণিক পরিচারিকাকেও তার সঙ্গে থাকতে দেয়া হয়নি। এই বিষয়গুলো আমরা মনে করি একেবারে অমানবিক।  জেল কোডের মধ্যে খুব পরিষ্কার করে বলা আছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বা সাবেক বিরোধী দলীয় নেত্রী তাদের সাথে থাকার জন্য কোনো অনুমতির দরকার নেই। অর্থাৎ জেল কোডেই বলা হচ্ছে তারা ডিভিশন পাবেন। তাকে এখন পর্যন্ত ডিভিশন দেয়া হয়নি। আমরা অবিলম্বে তাকে ডিভিশন দিয়ে তার যথাযথ মর্যাদায় সমস্ত সুযোগ সুবিধা দেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় এর জন্য সরকারকে দায়ী থাকতে হবে। : বিএনপি মহাসচিব বলেন,  আজকে এই সভা আমাদের দলকে আরো ঐক্যবদ্ধ করবে। আজকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের যে বক্তব্য সেটা আরো অনুপ্রাণিত করবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যাওয়ার সময়ই যে কথা বলে গিয়েছেন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে গণতন্ত্রের জন্য, গণতন্ত্রেকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এবং একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় করার জন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলেছেন। উনি আইনজীবীদের মাধ্যমে কোনো বক্তব্য দেননি। আইনজীবীরা গিয়েছিলেন আইনগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। : বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, মীর মোহাম্মাদ নাসির, মো. শাহজাহান, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহউদ্দিন আহমেদ, আবুল খায়ের ভূইয়া, ইঞ্জিনিয়র আ ন হ আখতার হোসেইন, জয়নাল আবেদিন ফারুক, জয়নাল আবেদীন ভি পি, হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, অধ্যাপক সুকোমল বড়–য়া, আবদুস সালাম, শাহজাদা মিয়া, ডাঃ ফরহাদ হালিম ডোনার, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারন- অর-রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

ভারতীয় গণমাধ্যম বলেছে, এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে আ’লীগ হেরে যাবে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
4990 জন