মৃত বিএনপি নেতার নামে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২ মামলা
Published : Monday, 12 February, 2018 at 12:00 AM
স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহ পুলিশের বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা সরকার উৎখাতের ৪টি মামলায় বিএনপি-জামায়াতের ২২৫ জনের নাম উল্লেখ করে আড়াই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মৃত এক বিএনপির নাম নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। ইদ্রিস আলী নামে দুই বছর আগে মারা যাওয়া নলডাঙ্গা গ্রামের ওই বিএনপি নেতা ঝিনাইদহ সদর থানা বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন। মামলায় তার পদবীও সহ-সভাপতি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে তার গ্রাম বা পিতার নাম না থাকায় বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। তবে বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, গণহারে আসামি করতে গিয়ে মৃত ব্যক্তিরাও বাদ যাননি। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজারগোপালপুর পুলিশ ক্যাম্পের তদন্ত কর্মকর্তা আলাউদ্দীনের দায়েরকৃত ১৫নং মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে সহ-সভাপতি ইদ্রিস আলীকে। তিনি এই মামলায় ২১নং আসামি। এছাড়া নারিকেলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের তদন্ত কর্মকর্তা বদিউর রহমানের দায়েরকৃত ১৭নং মামলাও ইদ্রিস আলীকে ১৭নং আসামি করা হয়েছে। কিন্তু সহ-সভাপতি পদে ইদ্রিস আলী নামে বিএনপির জেলা, থানা ও পৌর কমিটিতে কেউ নেই। এদিকে ইদ্রিস আলীর ছেলে আহসান কবীর জানান, তার পিতা ২০১৬ সালের ১৮ নভেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সদর থানা বিএনপির পুরনো কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। হয়ত ভুল করে তার পিতার নাম এসেছে বলেও দাবি করেন আহসান। আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাতলামারী পুলিশ ক্যাম্পের তদন্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬/২ ও ২৫ (খ) ধারায় ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮০-৯০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ সদর থানার এসআই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে একই ধারায় করা দায়েরকৃত মামলায় ৫৯ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার বাজারগোপালপুর পুলিশ ক্যাম্পের তদন্ত কর্মকর্তা আলাউদ্দীনের দায়েরকৃত মামলায় ৬২ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ৪০-৫০ জন আসামি হয়েছেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের তদন্ত কর্মকর্তা বদিউর রহমানের দায়েরকৃত মামলায় ৭৯ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সর্বশেষ দুটি মামলায় আসামি হয়েছেন বিএনপির প্রয়াত নেতা কথিত ইদ্রিস আলী। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক জানান, জেলা, থানা ও পৌর বিএনপির নতুন কমিটিতে ইদ্রিস আলী নামে তাদের কোনো সহ-সভাপতি নেই। তবে পুরনো কমিটিতে নলডাঙ্গ গ্রামের মরহুম ইদ্রিস আলী ছিল বলে আব্দুল মালেক যোগ করেন। তিনি আরো বলেন, ৩ বছর আগের পুরনো কমিটির অনেকের পদ-পদবী দিয়ে মামলা করা হলেও বর্তমান কমিটিতে তাদের পদ-পদবী ভিন্ন। সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস জানান, বিএনপির সাবেক নেতা ইদ্রিস আলীকেই ওই মামলার আসামি করা হয়েছে। কারণ সহ-সভাপতি পদে ইদ্রিস আলী নামে কেবল তিনিই ছিলেন। জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, মামলায় যে ইদ্রিস আলীকে দেখানো হয়েছে তিনি দুই বছর আগেই মারা গেছেন। বিষয়টি নিয়ে বাজারগোপালপুর পুলিশ ক্যাম্পের তদন্ত কর্মকর্তা ও ১৫নং মামলার বাদী আলাউদ্দীন জানান, গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্যমতে ইদ্রিস আলীর নাম এসেছে। ইদ্রিস আলী মৃত হলে বিষয়টি ভুলের কারণে হয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। এদিকে নারিকেলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের তদন্ত কর্মকর্তা এবং ১৭নং মামলার বাদী বদিউর রহমান জানান, তিনি মৃত হলে আদালতে লিখিত দিয়ে সংশোধন করা যাবে। বিষয়টি নিয়ে সদর থানার ওসি এমদাদুল হক শেখ বলেন, না ওটা তো কোনো ঠিকানা ছিল না। তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক ইদ্রিস আলীর নাম এসেছে। তবে এমন মৃত ব্যক্তির কারো নাম এলে চার্জশিটে ঠিক করে দেয়া হবে। এই ইদ্রিস আলীকে শৈলকুপা বিএনপির নেতা হিসেবেও কেউ কেউ চিহ্নিত করছেন। তবে শৈলকুপার ইদ্রিস আলীকে ১০-১২ বছর আগে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি নিয়ে শৈলকুপা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান খান দিপু জানান, তাদের কোনো কমিটিতে ইদ্রিস আলী নামে কেউ সহ-সভাপতির পদ হোল্ড করেন না। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, অদৃশ্য শক্তির কারণে সাগর-রুনি হত্যার বিচারে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। আপনি কী একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
1389 জন