সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যার বিচার
অদৃশ্য শক্তির কারণে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে
Published : Monday, 12 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 11.02.2018 11:22:05 PM
অদৃশ্য শক্তির কারণে কালক্ষেপণ করা হচ্ছেদিনকাল রিপোর্ট : আর কালপেণ না করে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির প্রকৃত হত্যাকারীদের মুখোশ উন্মোচনের দাবি জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। কোন অদৃশ্য শক্তির কারণে এই হত্যার তদন্তের নামে কালপেণ করা হচ্ছে, তা জানতে চেয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচারের দাবিতে গতকাল রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সামনে এক সমাবেশ আয়োজন করা হয়। ডিআরইউ আয়োজিত সমাবেশে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে সাংবাদিকেরা : একটি মিছিল নিয়ে সচিবালয়ে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি স্মারকলিপি দেন। : স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘দীর্ঘদিন বিচার না পেয়ে সাগর-রুনির পরিবারে ও সাংবাদিক সমাজে তৈরি হয়েছে পাহাড় সমান হতাশা। যেকোনো হত্যার বিচার পাওয়া নাগরিকের অধিকার। আর রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকের সেই : অধিকার নিশ্চিত করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বড় বড় হত্যারহস্য উন্মোচন ও অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করেছে। সাগর-রুনি হত্যার কোনো কুলকিনারা তারা করতে পারবে না, এটা আমরা বিশ্বাস করি না। কোন অদৃশ্য শক্তি বা বাধার কারণে এই হত্যার তদন্তের নামে বছরের পর বছর কালপেণ করা হচ্ছে, সেটাই এখন বড় রহস্য। সাগর-রুনি কেন খুন হলেন? কারা এই খুনের সঙ্গে জড়িত, তা জানতে চায় দেশবাসী’। : সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকান্ডের পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই আসামিদের গ্রেফতার করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু হত্যাকান্ডের ছয় বছর পরেও তদন্তকাজ শেষ হয়নি। এই ৪৮ ঘণ্টার শেষ কবে তা জানতে চেয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। তারা মনে করেন, সরকার আন্তরিকভাবে চাইলে অপরাধীদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব। আর কালপেণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত খুনিদের মুখোশ উন্মোচনের জন্য ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির প থেকে জোর দাবি জানানো হয়। : জনগুরুত্বসম্পন্ন অনেক ঘটনার মতো সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতেও আদালত স্বতঃপ্রণোদিত রুল দেবেন বলে সাংবাদিক নেতারা প্রত্যাশা করেন। : সমাবেশে ডিআরইউ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ছয় বছরে একটি হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটিত হবে না, এটা মেনে নেয়া যায় না। আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী কোনো সূত্র খুঁজে পায় না কেন? পুলিশ, র‌্যাব কারও কি সমতা নেই? এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে। সাংবাদিকেরা সে কারণ জানতে চান। : ডিআরইউর সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের বিচার না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিকেরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই হত্যার বিচার দাবিতে সোচ্চার হতে হবে। : আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক শুক্কুর আলী। : ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে-একাংশ) সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, শুধু একটি দিবসের মধ্যেই সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবিকে সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হবে। এ জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন পরিসরে জনমত গঠনে উদ্যোগ নিতে হবে। : প্রশাসন সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের বিষয়ে রহস্যজনক আচরণ করছে বলে মন্তব্য করেন ডিইউজে (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান। তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন দিতে অর্ধশতাধিকবার সময় নেয়া হয়েছে। বিচারের নামে প্রহসন হচ্ছে। যারা মতায় আছে, তারা আন্তরিক হলে আসামি গ্রেফতার করে বিচারের সম্মুখীন করা স্বল্প সময়ের কাজ। : সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসকাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ, ডিআরইউয়ের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান, রাজু আহমেদ, মোরসালিন নোমানী, ইলিয়াস হোসেন, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান খান প্রমুখ। : সাগর সরওয়ার মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং মেহেরুন রুনি এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার ছিলেন। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় তাদের শিশুপুত্র মাহীর সরওয়ার মেঘের সামনে তারা খুন হন। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, অদৃশ্য শক্তির কারণে সাগর-রুনি হত্যার বিচারে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। আপনি কী একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
1466 জন