খালেদা জিয়াকে দোতলায় স্থানান্তর আদালতের নির্দেশে ডিভিশন প্রদান
Published : Monday, 12 February, 2018 at 12:00 AM
দিনকাল রিপোর্ট : অবশেষে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিভিশন দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন।  বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জেলকোড অনুসারে ডিভিশন দেয়ার নির্দেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি। এর আগে বেগম খালেদা জিয়াকে দো’তলায় স্থানান্তর করা হয় বলে আইজি প্রিজন জানিয়েছিলেন। : গতকাল সকালে বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার জাকির হোসেন ভুঁইয়া ও অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামের এক আবেদনের পরিপ্রেেিত বেলা ১১টায় বিচারিক বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এই আদেশ জারি করেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজার রায়ের পর থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু কারাগারে তাকে সাধারণ কয়েদি হিসেবে রাখা হয়েছে। রায়ের পরই বেগম খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের লাল দালান বলে খ্যাত ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তাকে সাধারণ কয়েদির মতো রাখায় প্রতিবাদ জানান তার আইনজীবীরা। বেগম খালেদা জিয়াকে জেলকোড অনুসারে ডিভিশন দেয়ার নির্দেশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত আদেশ জারি করেন। ওই আদেশের কপি জেলগেটে নিয়ে যান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। : ২০১৬ সালের ২৯ জুন থেকে ছয় হাজার ৪০০ বন্দিকে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ার রাজেন্দ্রপুরের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করে পুরান কারাগার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুই বছর চার মাস ১০ দিন পর দুর্নীতির মামলায় সাজা প্রাপ্ত আসামি হিসেবে এই পরিত্যক্ত কারাগারেই দিন পার করছেন খালেদা জিয়া। এদিকে গতকাল রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কারা অধিদফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান আইজি প্রিজন : সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন গণমাধ্যমকে বলেন, সাবেক তিনবার প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একজন সাধারণ বন্দি হিসেবেই রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৬৪ ও ২০০৬ সালের কারাবিধি অনুযায়ী বর্তমান সংসদ সদস্যরাই ডিভিশন পান। সাবেক  প্রেসিডেন্টও পান। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী পান  না। বেগম খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী। ফলে তাকে কারাগারে ডিভিশন দেয়া হয়নি।  : কারা মহাপরিদর্শক  বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা একটি আবেদন দিয়ে গেছেন। ওই আবেদনটি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি সরকারের বিবেচনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। : কারা বিধি অনুসারে সাবেক প্রধানমমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে খালেদা জিয়া ডিভিশন পাবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ‘জেলকোডে দুটি কথা বলা আছে। ১৮৬৪ সালের জেলকোডে এ ধরনের কথা নেই। সেখানে বলা আছে কি কি ত্রে আছে, সেগুলো বিবেচনা করে আদালত যে নির্দেশ দেবেন সেটি পালন করা হবে। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে একটি জেলকোড প্রণীত হয়েছিল, ৬১৭-এর উপধারায় ওয়ারেন্ট অব পিসিডেন্স আছে। সেখানে সাবেক প্রেসিডেন্ট জেল কোড পাবেন বলা আছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কথা উল্লেখ নেই। সংসদ সদস্যের বিষয়ে সেখানে বলা আছে, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্য অথবা সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদকের কথা। যেহেতু তিনি বা তার দল সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন না, তাই তাকে ডিভিশন দিতে পারি না। : খালেদা জিয়ার শারীরিক চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি আইজি প্রিজন বলেন, চিকিৎসা মানুষের বেসিক হিউম্যান রাইটস। সাধারণ বন্দির জন্য যতটুকু প্রযোজ্য, ডিভিশন প্রাপ্ত বন্দির জন্যও ততটুকু প্রযোজ্য। চিকিৎসার বিষয়ে কোনও পার্থক্য নেই। একজন চিকিৎসক সার্বণিক আছেন। একজন ডিপ্লোমা নার্স সার্বণিক আছেন। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে বাইর থেকেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনার ব্যবস্থা করা হবে।’ : খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত পরিচারিকা তার সঙ্গে কারাগারে আছে কি না এ প্রসঙ্গে কারা মহাপরিদর্শক আরও বলেন, ‘তার সঙ্গে কোনো সেবিকা নেই। প্রথম দিন পুলিশ তাকে (সেবিকা) দিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু আমরা এক ঘণ্টা পরে তাকে ফেরত দিয়েছি।’ খালেদা জিয়ার খাবার প্রসঙ্গে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ‘বাইরে থেকে কোনও খাবার অ্যালাউ করা হচ্ছে না। সাধারণ বন্দিদের েেত্র শুকনো খাবার, ফলমূল অ্যালাউ করা হয়। েেত্র তার স্বজনরা ফলমূল নিয়ে এসেছেন, সেগুলো অ্যালাউ করা হয়েছে। আর  জেলকোড অনুযায়ী  যে ধরনের খাবার  দেয়ার কথা সেগুলোই  দেয়া হচ্ছে।’ খালেদা জিয়া কয়েদির পোশাকে আছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ‘জেলকোড অনুযায়ী কয়েদির পোশাক পরার কথা।’ : আইজি প্রিজন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সাধারণ বন্দির মতোই আছেন। তিনি শান্ত স্বভাবের।  ডিভিশন দেয়ার সিদ্ধান্ত আদালতের। সাধারণত আদালত কাউকে  ডিভিশনের আদেশ দিলে সরকার সেটা বিবেচনা করে তাকে ডিভিশন দেয়ার ব্যবস্থা করে থাকে। তিনি বলেন, সকালে ডিভিশনের বিষয়ে আদালতে একটা শুনানি হয়েছে শুনেছি। তবে নির্দেশনা সংক্রান্ত কোনো কাগজ এখনো হাতে পাইনি। হাতে পেলে  সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। : প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজার রায় প্রদানকালে বিএনপি চেয়ারপারসন  বেগম খালেদা জিয়াকে জেলকোড অনুযায়ী ডিভিশন দিতে কারা কর্তৃপকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন বিচারিক আদালত। : এদিকে গতকাল রবিবার সকালে বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের করা এক আবেদনের পরিপ্রেেিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক  ড. আখতারুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জেলকোড অনুযায়ী ডিভিশন দিতে কারা কর্তৃপকে ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দিয়েছেন।  বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানান, এটা খুবই অন্যায়। আর তাকে যে খাবার দেয়া হচ্ছে, সেটি সাধারণ বন্দিদের মতোই খাবার। এটা এক কথায় অখাদ্য। গত শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আইনজীবী নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ম্যাডামকে একজন সাধারণ কয়েদি হিসেবে রাখা হয়েছে। : জেলকোড ২০০৬ এর অর্ডারে  বেগম খালেদা জিয়া তিনটি ক্যাটাগরিতে ডিভিশন পাওয়ার যোগ্য। একটি হচ্ছে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দ্বিতীয় হলো তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন আর তৃতীয় হলো তিনি একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। এর মধ্যে যারাই থাকুক তারা অটোমেটিক্যালি ডিভিশন পাবেন। তাদের জন্য আদালতে কোনো দরখাস্তের প্রয়োজন নেই। কারো কাছে যেতেও হবে না। জেল অথরিটি এটি দিতে পারেন। কিন্তু আলাপ করে জানলাম, তারা এই নিয়ম ভঙ্গ করে এবং জেল কোডকে অমান্য করে তাকে একজন সাধারণ কয়েদির মতো রাখা হয়েছে। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, অদৃশ্য শক্তির কারণে সাগর-রুনি হত্যার বিচারে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। আপনি কী একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
1390 জন