সারাদেশে সমালোচনার ঝড়
মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে দণ্ড দেয়া হয়েছে
Published : Monday, 12 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 11.02.2018 11:20:46 PM
রফিক মৃধা, দিনকাল : মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, সাবেক সেনাপ্রধান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ করায় দেশবাসীসহ সারাবিশ্ব মর্মাহত ও বিুব্ধ হয়েছেন।  দেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া রূপসা থেকে পাথুরিয়া সর্বত্রই একই অবস্থা। সবারই মুখে মুখে বেগম খালেদা জিয়া। : দলটি এখন সাম্প্রতিক বছরগুলোর যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী। যেটা মনে করা হয়েছিল সাংগঠনিকভাবে দুর্বল বা মনোবল ভেঙে পড়াÑ সেটা আদৌ হয়নি। বরং রায়ের পর ‘সরকারের পাতানো ফাঁদে’ পা না দেয়ায় বেড়েছে বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির জনপ্রিয়তা। আর অন্যদিকে হতাশ হয়েছে বলা যায় আওয়ামী লীগ। এমনটাই মন্তব্য বিএনপির শীর্ষ নেতাদের। একই কথা বলছেন দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ অভিজ্ঞজনরাও। তারা বলছেন, এ রায়ে বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির জনপ্রিয়তা বেড়ে গেছে বহুগুণ। মুক্ত বেগম খালেদা জিয়ার চেয়ে কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়া এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। মানুষ প্রশ্ন তুলেছে, শেখ হাসিনার নামে ১৫টি মামলা ছিল। মতায় এসে সবকটি মামলা প্রত্যাহার করেছে। আর শেখ হাসিনার বর্তমান শাসনামলে শেয়ারবাজার ও ব্যাংকসহ বিভিন্ন সেক্টর থেকে কয়েক লাখ কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে লুটপাটকারীদের নাম প্রকাশের পরও তাদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। : কারাগার হলো রাজনীতিকদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রবাদবাক্য দেশের কোন নেতার জীবনে কেমন প্রভাব ফেলেছে সে হিসেব অজানা হলেও ‘কারাগার’ যে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার আলোকিত করছে সেটা বোঝা যাচ্ছে। ১/১১ তে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয় অবৈধ ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন সরকার। গত কয়েক বছর বিশ্বরাজনীতির খাতা থেকে অনেক দূরে থাকলেও কারাগারে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খালেদা জিয়ার নাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। এখন আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোর গুরুত্বপূর্ণ খবর হচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন; কেউ পরিস্থিতি জানতে চান কেউবা ঘটনার ওপর রাখছেন তীè দৃষ্টি। গোটা বিশ্বের দৃষ্টি যেন ঢাকার দিকে বন্দি বেগম খালেদা জিয়ার ওপর। জাতিসংঘ বেগম জিয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে আইনের নিরপে প্রয়োগের প্রতি সম্মান দেখানোর আহবান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে মামলা পর্যবেণ করছে। জাতিসংঘের ডেপুটি স্পোকসপার্সন ফারহান হক লিখিতভাবে জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়টি জাতিসংঘ গভীরভাবে পর্যবেণ করছে এবং এ বিষয়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগ হয়েছে কি না তা জাতিসংঘ খতিয়ে দেখছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত বেগম জিয়ার কারাদন্ডের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেণ করছে। দিল্লি থেকে প্রকাশিত দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ায় বলা হয়, বেগম জিয়ার কারাদন্ডের পর প্রতিবেশী এ দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তপে করতে চায় না ভারত। : ঢাকায় কর্মরত প্রভাবশালী দেশগুলোর কূটনীতিকরা নড়েচড়ে উঠেছেন। অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, কানাডা যুক্তরাজ্য ঢাকায় কর্মরত নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ‘বন্দি বেগম খালেদা জিয়ার’ ঘটনাবলী পর্যবেণ করছেন। সবার মুখে মুখে খালেদা জিয়ার নাম। বেগম জিয়ার কারাদন্ড নিয়ে দেশের মানুষ কী ভাবছেন? : বর্তমান সময়ে ফেসবুক, ব্লগ, টুইটার এবং পাঠক মতামত জনমত গঠনে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে। সেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দিকে তাকালে দেখা যায়, বেগম জিয়ার কারাবন্দি হওয়া এবং ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ মামলার রায়ে ৫ বছরের কারাদন্ড নিয়ে তর্ক-বিতর্কের ঝড় বইছে। সাধারণ মানুষ দুর্নীতির মামলার রায়ে খালেদা জিয়ার দন্ড- নিজেদের মতো করেই মূল্যায়ন করছেন, বক্তব্য দিচ্ছেন। : এই বক্তব্যগুলোর মধ্যে অধিকাংশের মতই হলো, বেগম জিয়ার দন্ড তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টায় করা হয়েছে। যারা মামলার রায়কে স্বাগত জানান, তারাও অভিমত দেন- হলমার্ক, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের বিচার না করে মাত্র দুই কোটি টাকা দুর্নীতির বিচারের প্রতি অতি উৎসাহ প্রশ্নের জন্মই দেয়। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, কুইক রেন্টাল বিদ্যুতের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে যাতে কেউ মামলা করতে না পারেন সে জন্য জাতীয় সংসদে ইনডিমনিটি বিল পাস করা হয়েছে। দেশের উন্নয়নের নামে মেগা মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে সেগুলো বাস্তবায়নে সময়পেণ এবং দফায় দফায় ব্যয় বৃদ্ধি কি দুর্নীতি নয়? বেগম খালেদা জিয়ার কারাদন্ডে যে মন্ত্রীরা উৎফুল্ল তারা আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখেন না কেন? ‘এক মাঘে শীত যায় না’ প্রবাদবাক্যটি মতাসীনদের কেউ কেউ স্মরণ করে দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। : টিভির টক শোগুলোতেও একই আলোচনা হচ্ছে। দেশের অধিকাংশ টিভি মিডিয়া সরকারের পরে লোকদের মালিকানায় হওয়ায় টক শোতে সরকারি দল অনুগত ব্যক্তিদের বেশি আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু ব্যবসায়িক কারণে দর্শক ধরে রাখার কৌশল হিসেবে ভিন্ন মতাবলম্বীদেরকেও মাঝেমধ্যে টক শোয় ডাকা হয়। তার মধ্যে বশির ভাগ আলোচনায় উঠে এসেছে ‘মুক্ত খালেদা জিয়ার’ চেয়ে ‘বন্দি খালেদা জিয়া’ অনেক বেশি শক্তিশালী। : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন কিনা তার চাইতেও বড় প্রশ্ন হচ্ছে নির্বাচনের সময় তিনি জেলের ভেতরে থাকবেন না মুক্ত থাকবেন? বেগম খালেদা জিয়া যদি নির্বাচনে অংশ নিতে নাও পারেন, তবুও তিনি যদি জামিনে থাকেন এবং প্রচারাভিযানে অংশ নিতে পারেন; তাহলে এই কারাদ  বিএনপির জন্য নেতিবাচক না হয়ে বরং ইতিবাচক হতে পারে। : এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যমও বলছে, ‘এ মুহূর্তে বাংলাদেশে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ হেরে যাবে।’ এদিকে পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে ৭৩ বছরের নারী বেগম খালেদা জিয়া রায় শুনতে আদালতে ও রায়ের পর কারাগারে দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া নিশ্চয়ই তার সাহসিকতার পরিচয় বহন করে। দেশ, জাতি ও দলের জন্য এমন দৃঢ়তা ও সাহসিকতা দেখানোর দৃষ্টান্ত স্বাধীন বাংলাদেশে নতুন ইতিহাস স্থাপন করেছে বলেও মন্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, জনসমর্থনকে কাজে লাগিয়ে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনেই আশার আলো দেখছেন দায়িত্বশীল নেতারা। : এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হয়েছে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে। রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ৬ জনকেই সাজা দেয়া হয়। বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে যাওয়া হয় পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কের পরিত্যক্ত নির্জন কারাগারে।  : এই রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তারা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্যই দেয়া হয়েছে এমন রায়। শীর্ষ-ব্যক্তি কারাগারে যাওয়ায় মর্মাহত দলের নেতাকর্মীরা। প্রশ্ন উঠেছে, এতে কি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হলো বিএনপি? জবাবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মতাসীনরা ভেবেছেন বেগম খালেদা জিয়া জেলে ঢুকলেই বিএনপি দুর্বল হয়ে যাবে। তাদের এই ধারণা ঠিক নয়। বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির জনপ্রিয়তা আরো বেড়েছে। : বেগম জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলে নেতৃত্ব সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই বলেও জানান বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই দেবেন প্রয়োজনীয় নির্দেশনা। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করেই তিনি লন্ডন থেকে নির্দেশনা দেবেন। দল সেটি পালন করবে। : এদিকে রায় ঘোষণার পর দলের ঘোষিত দুদিনের বিােভ মিছিল ও সমাবেশে সারাদেশের মতো ঢাকায়ও দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীর ঢল নামে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুক্রবার রাজধানীতে বিােভ মিছিল করে বিএনপি। শনিবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিশাল সমাবেশের পাশাপাশি হাজার হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে ফকিরাপুল থেকে চেয়ারপারসনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে একটি মিছিল বের হয়। একই কর্মসূচি পালিত হয়েছে চট্টগ্রাম, বরিশাল, বগুড়া, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলসহ সারাদেশে। পুলিশও জানিয়েছে, এ সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল। তার পরও পুলিশ রাজধানীসহ সারাদেশে গণগ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে। বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জও করে। এ প্রসঙ্গে শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি ডিএমপির উপসহকারী পুলিশ কমিশনার শিবলী নোমান। : বিএনপি নেতারা বলছেন, দেশের  নির্বাচনকে সামনে রেখে সহিংসতা নয়, এমন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনেই থাকতে চায় দলটি। শুধু আন্দোলন নয়, মামলা মোকাবিলায় আইনি লড়াইও সমানতালে চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকসহ বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। : গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ করেছিল ডিএমপি। ডিএমপি কমিশনার ঘোষণা দিয়ে ছিলেন, রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে বিএনপি নেতাকর্মীদের কোনও ছাড়া দেয়া হবে না। এমনকি তিনি ‘ঝামেলা করলে চেহারা পাল্টে’ দেয়ার কথাও বলেছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বিএনপিকে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন। কিন্তু এসব হুঙ্কার আর ভয়-ভীতি আটকাতে পারেনি বিএনপি কর্মীদের। এদিন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুলশান থেকে আদালতের পথে রওয়ান দেয়ার পর তেজগাঁও সাতরাস্তা থেকে তার গাড়িবহরকে ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢল নামে। যা দেখে অনেকেই হতবাক হয়ে যান। রমনায় আওয়ামী লীগের ইটপাটকেল, কাকরাইলে পুলিশের টিয়ারশেল আটকাতে পারেনি হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মীকে। শেষ পর্যন্ত তারা আদালতের নির্ধারিত স্থানে নেত্রীকে মিছিলসহ পৌঁছে দেন। যা সারা দেশে দলীয় কর্মীদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি করেছে। ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে থাকা বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েও বিএনপির নেতাকর্মীদের রাজপথ থেকে বিরত রাখতে পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না। এ সরকারের পতন নিশ্চিত।  বিএনপি শান্তিপূর্ন আন্দোলন করবে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে। : খালেদা জিয়ার কারাদন্ডের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। শুধু মতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের ১৪ দলীয় জোট নেতারা ছাড়া প্রায় সব দলই উদ্বেগ জানাচ্ছেন, প্রতিবাদ করেছেন। বিকল্পধারার সভাপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, জনমনে সন্দেহ দৃঢ় হচ্ছে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভবিষ্যৎ আইনি পদপে (আপিল, জামিন ইত্যাদি) সরকারি হস্তেেপর মাধ্যমে প্রভাবিত হবে কি না। এ ছাড়া মাহমুদুর রহমান শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘দুই কোটি টাকা নিয়ে এতো হুলুস্থুল ঘটনা, অথচ হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট নিয়ে নীরব কেন?’ শনিবার এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেছেন, ১০ দিনে ৬৩২ পৃষ্ঠার রায় লেখা সম্ভব নয়। এটি আগেই লিখে রাখা হয়েছে। তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিও করেন। : তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতার কারণে নির্বাচনি পরিবেশ তিগ্রস্ত হলে সেটার জন্য সরকারই দায়ী থাকবে বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক ও গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ (মার্কসবাদী) এর কেন্দ্রীয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, খালেদা জিয়ার রায়ের মধ্য দিয়ে সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটেছে। আমরা দুর্নীতিমুক্ত দেশ চাই এবং রাজনৈতিক ও দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে সকল দুর্নীতিবাজের শাস্তি চাই। বর্তমানে অবাধে দুর্নীতি-লুটপাট চলছে। শুধু ২/৪ কোটি টাকা নয়, মতার ছত্রছায়ায় শত শত ও হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট এবং বিদেশে পাচারের খবর প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু মতায় থাকায় অপরাধীরা দুর্নীতির সাজা থেকে দায়মুক্তি পাচ্ছে। : নানা কারণে জনগণ মনে করছে যে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচার কার্যক্রমের পেছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি কাজ করেছে। জনগণের মন থেকে সে সংশয় দূর করা এখন সরকারেরই দায়িত্ব। গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় দেশের রাজনীতি এবং আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হবে। দেশে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির বিচার হয় না; অথচ সামান্য ইস্যুর বিচার নিয়ে হইচই হয়; তাতেই বোঝা যায় বেগম খালেদা জিয়ার মামলায় কী হয়েছে। : বিশিষ্টজনেরা বলছেন, সরকার যে টার্গেট নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে ভরেছে সেই ল্য পূরণ হয়নি। বরং সরকার আরও উল্টো চাপে পড়েছে। আর সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রীকে যেভাবে হেনস্তা করছে তার পরিণতির জন্যও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অপো করতে হবে। :  





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, অদৃশ্য শক্তির কারণে সাগর-রুনি হত্যার বিচারে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। আপনি কী একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
1440 জন