রুপা হত্যা মামলায় চারজনের ফাঁসির আদেশ
Published : Tuesday, 13 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 12.02.2018 11:09:49 PM
রুপা হত্যা মামলায় চারজনের ফাঁসির আদেশস্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল, দিনকাল : টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ল’ কলেজছাত্রী রুপা প্রামাণিককে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৪ জনকে ফাঁসি ও সুপারভাইজার সফর আলীকে ৭ বছরের কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া এজলাসে ওঠেন। ১১টা ২০ মিনিটে তিনি চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। ফাঁসির দন্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলোÑ ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর, হেলপার শামীম, আকরাম ও জাহাঙ্গীর। রায়ে ছোঁয়া পরিবহনের বাসটি জব্দ করে রুপার পরিবারকে মালিকানা প্রদানের আদেশ দেয়া হয়। চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় জনাকীর্ণ পরিবেশে প্রদান করা হয়। : এ বছরের ৩ জানুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হওয়ার ৪১ দিনে এ মামলার রায় দেয়া হয়। রায়ে ফাঁসির দন্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দন্ডাদেশ কার্যকর করার আদেশ দেয়া হয়। আর সুপারভাইজার সফর আলী ধর্ষণে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে তাকে ৭ বছরের কারাদন্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন বলে আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। রায়ের আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের আদালতে  হাজির করা হয়। রায় শুনে আসামিরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। : টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি একেএম নাছিমুল আখতার ও বাদীপক্ষের আইনজীবী এস আকবর খান প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই মামলা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। স্বল্পতম সময়ে এ মামলার রায় হওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ও অ্যাডভোকেট শামীম চৌধুরী দয়াল রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আসামিরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে তারা জানান। রুপার ভাই হাফিজুর রহমান প্রামাণিক মামলার এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে তার প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেন। : উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রুপাকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ করে পরিবহন শ্রমিকরা। বাসেই তাকে হত্যার পর মধুপুর উপজেলায় পঁচিশমাইল এলাকায় বনের মধ্যে রুপার মৃতদেহ ফেলে রেখে যায়। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাতপরিচয় মহিলা হিসেবে তার লাশ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে রুপার লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্তানে দাফন করে। অজ্ঞাতনামা মহিলার লাশ হিসেবে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। পরে পত্র-পত্রিকার খবর দেখে নিহতের ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় তার বোনের ছবি দেখে শনাক্ত করেন। পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনটি জব্দ করে। ২৮ আগস্ট এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা প্রত্যেকেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। : পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাইয়ুম খান সিদ্দিকী মামলার তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের করেন। আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। ৩২ জনকে এই মামলায় সাক্ষী করা হয়। গত ৩ জানুয়ারি বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরবর্তীতে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসক, ১৬৪ ধারার জবানবন্দি গ্রহণকারী ৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সুরতহাল রিপোর্ট ও জব্দ তালিকার সর্বমোট ২৭ জন আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

আসক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দ্রুত বিচার আইনে শাস্তি বাড়ানো হয়েছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
42172 জন