কপি পেতে কোর্টফলিও জমা
রায়ের সার্টিফাইড কপি নিয়ে গড়িমসি করছে সরকার : মওদুদ
Published : Tuesday, 13 February, 2018 at 12:00 AM
দিনকাল রিপোর্ট : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের ‘সার্টিফাইড কপি’ প্রদান নিয়ে সরকার ‘গড়িমসি’ করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার আমরা মামলার রায়ের কপি চেয়েছি, সেদিন আমরা সত্যায়িত কপিটি পাইনি। এখন পর্যন্তও (সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টা) আমরা পাইনি বলে শুনেছি। এভাবে তারা (সরকার) রায়ের কপি দেয়া নিয়ে গড়িমসি করে যাচ্ছে, করছে। : গতকাল সোমবার বিকালে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাজা : প্রতিহিংসার রাজনীতি’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়। : সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে ‘নির্জন কারান্তরীণ’ রাখার অভিযোগ করে মওদুদ বলেন, একেকটা দিন দেরি করলে বেগম খালেদা জিয়া আরো বেশি একদিনের জন্য কষ্ট পাবেনÑএটাই তাদের মনের ইচ্ছা বলে মনে হয়। তারা এতো নিষ্ঠুর। জেলখানাতে যদি মানবিক আচরণ না করেন- তাহলে এই সরকারকে কী বলব? এই সরকার একটা অমানবিক সরকার, মানবতা বোধ নেই তাদের। : রবিবার কেন্দ্রীয় কারাগারে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দলের পাঁচ আইনজীবীর (মওদুদ আহমদসহ) দেখা করার প্রসঙ্গটি টেনে মওদুদ আহমদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। উনি বলছেন, আমাকে দোতলায় একটি কক্ষে রাখা হয়েছে। সিঁড়ি দিয়ে অনেক কষ্ট করে আমাকে উঠতে হয়, নামতে হয়। অথচ আমরা খবরের কাগজে দেখেছি তাকে রাখা হয়েছে নাকি গ্রাউন ফ্লোরে। আসলে ‘না’। প্রথম দিকে সরকার অনেক মিথ্যা প্রচার করেছিল- উনি ডিভিশন পেয়েছেন, ফাতেমাকে (গৃহপরিচারিকা) দেয়া হয় সাথে থাকতে ইত্যাদি। এখন দেখা যাচ্ছে সব তথ্যই মিথ্যা ছিল। : সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ডিভিশন পেতে আদালতের অনুমতি লাগবে-কারা কর্তৃপক্ষের এহেন বক্তব্যের বিরোধিতা করে সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, কিসের আদালতের অনুমতি লাগবে? আমি কারা সংস্কার কমিটির চেয়ারম্যান ছিলাম পাঁচ বছর। আমরা অনেক পরিবর্তন এনেছি, কারা সংস্কার করেছি। এর মধ্যে অন্যতম ছিল যে, একজনকে ধরে নিয়ে গেলো সে সাজাপ্রাপ্ত হোক আর না-ই হোক তাদেরকে ক্লাস ওয়ান আসামি হিসেবে, কয়েদি হিসেবে, হাজতি হিসেবে রাখার ব্যবস্থা করা। আগে এই ডিভিশনের জন্য আদালতে যেতে হতো, অনুমতি নিতে হতো। এসব আমরা (চার দলীয় জোট সরকার) তুলে দিয়েছি। আজকে ৩ দিন যাবত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য, দেশনেত্রীকে অমানবিক পরিবেশে রাখা হলো, ডিভিশন না দিয়ে নির্জন কারাবাসে রাখা হলো- এটা সম্পূর্ণভাবে সংবিধান পরিপন্থী। : বর্তমান সরকারের আমলে নিজের কারাবন্দিত্ব থাকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমি এই সরকারের আমলে দুইবার জেলে গেছি, কারাগারে আমার যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিভিশন দিয়ে দিয়েছে। জিজ্ঞাসা করে নিন। বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে আইন নতুন করে কোথায় থেকে আসলো? এটা সরকার করেছে প্রতিহিংসার কারণে। বেগম খালেদা জিয়াকে কষ্ট দিতে। আমরা বলতে চাই, বেগম খালেদা জিয়াকে যতই কষ্ট দেবেন, আপনাদের ভোট ততই কমতে থাকবে। প্রতিদিন বেগম খালেদা জিয়া জেলে থাকবেন, প্রতিদিন আপনাদের ১০ লাখ ভোটারের ভোট কমে যাবে। আওয়ামী লীগকে  কে বুদ্ধি দিলো বেগম খালেদা জিয়াকে জেলখানায় পাঠাতে হবে, পাঠালে বোধহয় বিএনপি একেবারে শেষ হয়ে যাবে। এটা ঠিক না। বিএনপি যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন সবচাইতে শক্তিশালী ও সবচাইতে ঐক্যবদ্ধ।  বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে উল্লেখ করে মওদুদ হুঁশিয়ারি দেন, তাকে ছাড়া কোনো নির্বাচন এদেশে হবে না। : আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা নাসির উদ্দিন হাজারীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ভিপি ইব্রাহিম, বিএনপি নেতা শাহজাহান সম্রাট, ফরিদউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

আসক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দ্রুত বিচার আইনে শাস্তি বাড়ানো হয়েছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
42304 জন