কারাগারে বন্দি খালেদা জিয়া এখন অনেক বেশি শক্তিশালী
Published : Tuesday, 13 February, 2018 at 12:00 AM
দিনকাল রিপোর্ট : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের মিথ্যা সাজানো মামলার রায়ে সাজা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেন। এরপর থেকে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন বেগম খালেদা জিয়া। এরই মধ্যে মামলার সত্যায়িত অনুলিপির জন্য আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা। অনুলিপি হাতে পেলেই আবেদন করা হবে জামিনের। অন্যদিকে রায়ের কপি পেলে সাজা বাড়ানোর আবেদন করার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন ওঠে যে, বিএনপি-প্রধানের অবর্তমানে দলে ভাঙন তৈরি হতে পারে। দলীয় প্রধানের সাজা হলে দলের জনপ্রিয়তা কমে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছিল অনেকে। তবে রায়ের আগের দিনই এক সংবাদ সম্মেলনে এসব আশঙ্কার জবাব দিয়ে যান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। জোর দিয়ে তিনি বলেছিলেন, বিএনপিকে কেউ ভাঙতে পারবে না। বিএনপি ও বেগম খালেদা আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী। বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন, চেয়ারপারসনের সাজা দলকে দুর্বল করতে পারেনি। বরং এর মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের মনোবল আগের চেয়ে আরো বেশি শক্ত হয়েছে, বাড়িয়েছে ঐক্য। জনপ্রিয়তা বেড়েছে বিএনপির। বেগম খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণার দিন থেকে গতকাল পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতে রাজপথে প্রতিবাদী মানুষের ঢল নেমেছে। : বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, মুক্ত বেগম খালেদা জিয়ার চেয়ে মিথ্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত জেলে বন্দি বেগম খালেদা জিয়া অনেক বেশি জনপ্রিয় ও শক্তিশালী। সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে জেলে নিয়েছে। এর মাধ্যমে বিএনপি নয় বরং আওয়ামী লীগের মনোবল ভেঙে গেছে। তাদের জনপ্রিয়তা নষ্ট হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে যেসব রাজনৈতিক দল ও নেতাদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন করা হয়েছে তাদের সবাই শক্তিশালী ও জনপ্রিয় হয়েছে বলে দাবি করেন আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, বেশি দূর যেতে হবে না, বাংলাদেশের দিকে তাকালেই সেটি দেখতে পাবেন। সুতরাং যত ষড়যন্ত্রই হোক না কেন বিএনপির ঐক্যে ভাঙন ধরানো যাবে না। কারণ ম্যাডামকে জেলে নিয়ে আমাদের মধ্যে যে বিভেদ ছিল সেটি সরকারই দূর করে দিয়েছে। : বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বিএনপি একটি আদর্শিক রাজনৈতিক দল। আমরা জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। কোনো ষড়যন্ত্রই আমাদের মাঝে বিভেদ তৈরি করতে পারবে না। তবে কেউ যদি বিএনপি ভাঙার চেষ্টা করে তাহলে তা কখনো সফল হবে না। তিনি আরো বলেন, দেশের এমন কোনো এলাকা নেই যেখানে বিএনপির কমিটি ও নেতাকর্মী নেই। দেশের মাটি ও মানুষের প্রাণের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে বন্দি করে তার জনপ্রিয়তা আরো অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। কারণ পৃথিবীতে সব সময় নির্যাতিতদের পাশে থাকে জনগণ। এর আগেও জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পর দেশের মানুষ খালেদা জিয়াকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে প্রধানমন্ত্রী বানান। : বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক বেলাল আহমদ বলেন, আমাদের নেত্রী আমাদের মা। তাঁকে জেলে বন্দি করে কখনো বিএনপিকে দুর্বল করা যাবে না। অতীতের চেয়ে বিএনপি এখন আরো অনেক বেশি শক্তিশালী। দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিভেদ দূর হয়ে ঐক্য গড়ে উঠেছে। আর যারাই বিএনপিকে ভাঙার ষড়যন্ত্র করবে তারাই আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করেন বিশেষ আদালতের বিচারক ডা. মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেন। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদন্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেনÑ মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

আসক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দ্রুত বিচার আইনে শাস্তি বাড়ানো হয়েছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
42314 জন