বেগম খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়ে কূটনীতিকদের জানিয়েছে বিএনপি
Published : Wednesday, 14 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 13.02.2018 10:29:45 PM
দিনকাল রিপোর্ট : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা, আগামী জাতীয় নির্বাচন আর বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারসহ নানা বিষয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের অবহিত করেছে বিএনপি। এসময় কূটনীতিকরা কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তার মর্যাদাপূর্র্ণ ডিভিশন প্রাপ্তির বিষয়ে দলের নেতাদের কাছে নিশ্চিত হতে চেয়েছেন বলে জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির সিনিয়র নেতারা এসব বিষয়ে তুলে ধরেন। : বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন,  ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন, রিয়াজ রহমান, হারুন উর রশিদ, বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সহআন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফাহিমা মুন্নি, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, বেবী নাজনীন, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। বাংলাদেশে অবস্থানরত ২২টি দেশের কূটনীতিকরা বিএনপির আমন্ত্রণে এ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক, জাপান, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, কানাডা ও চীন। এ ছাড়া বৈঠকে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতও উপস্থিত ছিলেন। : বৈঠকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার সাজা, লন্ডনে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দূতাবাসে হামলার অভিযোগ ও সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ে কূটনীতিকদের অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকের শুরুতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তার এই ব্রিফিংয়ের পর কূটনীতিকরা নানা বিষয়ে জানার জন্য প্রশ্ন করেন। এসময় সেখানে উপস্থিত নেতারা এসব প্রশ্নের জবাব দেন। কূটনীতিকদের : প্রশ্নে বেশিরভাগই বেগম খালেদা জিয়ার মামলা প্রসঙ্গ ও আগামী জাতীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক ছিল বলে জানা গেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মামলাকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে এটাকে রাজনৈতিক মামলা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। মামলার রায়ের পর সরকার প্রতিহিংসা বাস্তবায়নের জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রাপ্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে বলেও অভিযোগ করেন। এছাড়া মামলার রায়ের অনুলিপি প্রদান নিয়েও সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে জানান। : বিএনপির নেতারা কূটনীতিকদের জানান, এ বছরে জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকার নানাবিধ ষড়যন্ত্র করে বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা করছে। সরকার এখন একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু করতে চাইছে বলে উপস্থিত কূটনীতিকদের জানান তারা। এসময় তারা সারাদেশে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ মামলার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন এবং তাদেরকে দেন বলে জানা গেছে। : মহাসচিব তার লিখিত বক্তব্যে জানান, নির্বাচনকালীন সময়ে দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হয় না। এ কারণে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চাইছে। বিএনপির কূটনৈতিক উইংয়ের একজন সদস্য জানান, সরকারের এমন আচরণে অনেক কূটনীতিক উষ্মা প্রকাশ করেছেন। তাদের বেশিরভাগ সদস্যই বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা, তার শারীরিক পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন। তাকে এখন ভিআইপি মর্যাদার ডিভিশন দেয়া হয়েছে কি না তা জানতে চেয়েছেন। এসময় কূটনীতিকরা বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়ার পর বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির প্রশংসা করেছেন। তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে সকলের অংশগ্রহণ আর নিরপেক্ষ দেখতে চান বলে জানিয়েছেন। : : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির জন্যই জেলে রাখা হয়েছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
1771 জন