জনতার উত্তাল তরঙ্গে মুক্ত হবেন তিনি : বিএনপি
খালেদা জিয়াকে পরিত্যক্ত কারাগারে রেখে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে
Published : Wednesday, 14 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 13.02.2018 10:29:10 PM
দিনকাল রিপোর্ট : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে চলমান আন্দোলন আরো বেগবান করবে বিএনপি। অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই কর্মসূচি থেকে আমরা শপথ নেই। জনতার উত্তাল তরঙ্গের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে জেল থেকে মুক্ত করে আনব। সেই ল্েয আন্দোলনকে আরো বেগবান করি। : একই অনুষ্ঠানে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আমি সরকারকে একটা ধন্যবাদ দিতে চাই, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আমরা দেশনেত্রী বানিয়েছিলাম। আজ আওয়ামী লীগ দেশনেত্রীকে নেলসন ম্যান্ডেলা বানিয়ে দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপির নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এ অবস্থান কর্মসূচি হয়। এক ঘন্টার অবস্থান কর্মসূচির সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমাদের এই সংগ্রাম দেশনেত্রীকে মুক্ত করে নিয়ে আসার লড়াই, এই লড়াই আমাদের নেতাকর্মীদের মুক্ত করার লড়াই। এই লড়াই বাংলাদেশের মানুষকে মুক্ত করার লড়াই, গণতন্ত্রকে মুক্ত করার লড়াই। আসুন এই অবস্থান কর্মসূচি থেকে আমরা শপথ নেই আগামীদিনে সমস্ত কর্মসূচি সফল করে জনতার উত্তাল তরঙ্গের মধ্য দিয়ে আমরা দেশনেত্রীকে এই জেল থেকে মুক্ত করে নিয়ে আসবই। আসুন সেই ল্েয আমরা আন্দোলনকে আরো বেগবান করি। সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রীকে তারা (সরকার) কারাগারে নিয়ে মনে করেছে, বাংলাদেশের মানুষকে স্তব্ধ করা যাবে, বাংলাদেশের মানুষকে দমিয়ে রাখা যাবে। সেটা হবে না। দেশনেত্রীকে এই কারাগার থেকে বাংলাদেশের মানুষ অবশ্যই মুক্ত করে নিয়ে আসবেই। তারা (মতাসীন দল) ভুলে যায় যে, যারা অতীতে তাদের নেতা মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন, সেই নেতাকে কারাগার থেকে বের নিয়ে নিয়ে এসেছিল। : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পরিত্যক্ত কারাগারে সাধারণ কয়েদির মতো রেখে সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রীকে কারাগারে পাঠিয়েছে। যে কারাগার পরিত্যক্ত, একটি জীর্ণ ২শ বছরের পুরনো একটি ভবন। আন্তর্জাতিক যে মানদন্ড, আমাদের সংবিধানেও আছেÑ কখনো কোনো নাগরিককে সলিডারি কনফাইনমেন্টে পাঠানো যাবে না। আজকে দেশনেত্রীকে সম্পূর্ণ একা এই পরিত্যক্ত একটি কারাগারে পাঠিয়ে এই অবৈধ সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত করেছে। তাদের একদিন বিচার হবে। : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের সাথে আছেন। তিনি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের সরকার সম্পূর্ণ গণবিচ্ছিন্ন হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। এর জন্য বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা। সারাদেশে প্রায় ১৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। বর্তমান অবৈধ সরকার সম্পূর্ণ গণবিচ্ছিন্ন ও ব্যর্থ। তাদের আর মতায় থাকার নৈতিক অধিকার নেই। : মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই, আমাদের এই লড়াই ও সংগ্রাম দেশনেত্রীকে মুক্ত করে আনার লড়াই। এই লড়াই নেতাকর্মীদের মুক্ত করার লড়াই। বাংলাদেশের মানুষ এবং গণতন্ত্রকে মুক্ত করার লড়াই। : বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার ষড়যন্ত্র করছে। তারা বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে আগামী সংসদ নির্বাচন করতে চায়। আমরা বলতে চাই, বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া আগামী নির্বাচন ইনশাল্লাহ করতে দেয়া হবে না। দেশনেত্রী কারাগারের বাইরে ছিলেন তাঁর যে জনপ্রিয়তা ছিল আজকে কারাগারে যাওয়ার পর তিনি (খালেদা জিয়া) আরো শক্তিশালী হয়েছেন, জাতীয় নেতা থেকে আন্তর্জাতিক নেত্রী হয়েছেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে তিন দিন সাধারণ কয়েদি হিসেবে রাখা হয়েছে। যারা খালেদা জিয়াকে সাধারণ কয়েদি হিসেবে রেখেছেন তাদের বিচার চাই আমরা। : বিএনপি স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, এই সরকার প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করে, আইনে বিশ্বাস করে না বলেই তারা জেলকোডে যে নিয়ম আছে, সবকিছুকে বরখেলাপ করে বেগম খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাবাসে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা এর নিন্দা জানাই। আমরা মনে করি, বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। আন্দোলনের মাধ্যমেই তাকে আমরা মুক্ত করে আনব। একই সঙ্গে আইনের প্রক্রিয়াও আমরা চালু রাখব। তিনি বলেন, আন্দোলন ছাড়া দেশনেত্রীকে মুক্ত করার আর কোনো বিকল্প পথ নেই। কিন্তু এর সাথে আইনি লড়াইও চলবে। : বিএনপি স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আজকে দেশনেত্রীকে কারাগারে আটক রেখে দেশকে আবার পরাধীন করার চক্রান্ত চলছে। ইনশাল্লাহ দেশের জনগণ এটা হতে দেবে না। আজকে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বগল বাজাচ্ছেন। বিএনপিতে নাকি ভাঙন ধরবে, ভাঙন ধরেছে। সেটা গুড়েবালি, ভুলে যাবেন এসব কথাবার্তা। বিএনপিকে ভাঙন ধরানোর বাংলাদেশে কোনো শক্তির মতা নেই। নেতাকর্মী ও সংগঠন থাকতে কেউ বিএনপিকে ভাঙতে পারবে না। তিনি বলেন, আমি সরকারকে একটা ধন্যবাদ দিতে চাই, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমরা দেশনেত্রী বানিয়েছিলাম। আজ আওয়ামী লীগ দেশনেত্রীকে নেলসন ম্যান্ডেলা বানিয়ে দিয়েছে। আমরা এই ধরনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়ে দেশনেত্রীকে কারাগার থেকে বের করে আনব, গণতন্ত্রকে মুক্ত করে আনব। : বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিচারের নামে প্রহসন করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রাখা হয়েছে। সুতরাং আমরা সুবিচার পাইনি। এরকম অত্যাচারী সরকার  মতায় থাকা অবস্থায় সুবিচার পাওয়ার আশা করা বোকামি। এরপরও আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই আইনি লড়াই করছি। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনারা (সরকার) ভাবছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে নির্বাচন করবেন। ভুলে যান। কারণ বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না। : বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঞ্চালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সিনিয়র সহ- সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশীদ প্রমুখ। : এছাড়া ২০ দলীয় জোটের শরিক লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব সাহাদাত হোসেন সেলিম বক্তব্য রাখেন। : : : : : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির জন্যই জেলে রাখা হয়েছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
1773 জন