অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন : বিএনপি
ষড়যন্ত্র করে খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা যাবে না
Published : Thursday, 15 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 14.02.2018 10:30:46 PM
দিনকাল রিপোর্ট : ষড়যন্ত্র করে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করে রাখা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকার বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে বাইরে রেখে আবার একটি পাতানো নির্বাচন করতে চাইছে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। : গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসকাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অনশনে তিনি এসব কথা বলেন। একই দাবিতে দেশজুড়ে দিনব্যাপী অনশন কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। তবে ঢাকায় জাতীয় প্রেসকাবের সামনে পুলিশের অনুরোধে ৩ ঘন্টা আগেই দুপুর ১টায় অনশন কর্মসূচি শেষ করে দলটি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেন আদালত। এরপর থেকে তিনি নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে রয়েছেন। : গতকাল বুধবার দুপুর ১টায় অনশনে সমাপ্তি টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের বাইরে রাখতেই বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে? তবে বিএনপি চেয়ারপারসন আইনগতভাবেই মুক্ত হয়ে আগামী নির্বাচনে অংশ নেবেন। তিনি বলেন, আমরা এই অনশন কর্মসূচি থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি জানাচ্ছি এবং সব ধরনের নির্যাতনমূলক কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার আহবান জানাচ্ছি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের অনশন কর্মসূচি ৪টা পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কর্তৃপরে অনুরোধে আমরা এটা ১টা পর্যন্ত করে দিয়েছি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ নেতৃবৃন্দকে পানি পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান। : বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে নির্বাচন করতে চায়, সেই চক্রান্ত তারা করছে। আমরা বলে দিতে চাই, বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া এ দেশের কোনো নির্বাচন হতে দেব না। নিরপে সরকারের অধীনেই সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হতে হবে। : বিএনপি স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়েছে। আমরা এই রায় মানি না। এই রায় হলো একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাদের নেত্রীকে দুর্বল করার জন্য। আমাদের নেত্রী দুর্বল হবেন না। আমরা সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই, আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করে আনব। : বিএনপি স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, দেশনেত্রীকে বন্দি করা হয়েছে, আজ পর্যন্ত তার রায়ের কাগজ দেয়া হয়নি। ২৪ ঘন্টার মধ্যে রায়ের কপি পাওয়ার কথা। দীর্ঘসূত্রতা করে তাকে আটকিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র করছে। বিএনপির শাসনামলে কারা সংস্কার কমিটির আমি সদস্য ছিলাম। জেলকোড আমরা করে এসেছিÑ কারাগারে যাওয়া মাত্র যেকোনো এমপি, মন্ত্রী, সাবেক কিংবা বর্তমান যিনি হোনÑ সঙ্গে সঙ্গে তাকে ডিভিশন দিতে বাধ্য। অথচ যারা আজ চার দিন যাবত অবৈধভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে ডিভিশন দেয়নি। আমি মহাসচিবকে বলব, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হোক, তাদের বিচারের ব্যবস্থা করা হোক। : মহানগর দেিণর সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, দেশনেত্রী নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের কথা বলেছেন। আমরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সবাইকে বলে দিতে চাই, এটাকে কেউ দুর্বলতা ভাববেন না। জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক সৈনিক একজন বেঁচে থাকতে ষড়যন্ত্রকারীরা কেউ পার পাবে না। : ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ২০ দলীয় জোটনেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধু কারাগারে নন, ১৬ কোটি মানুষ আজ কারাগারে। সরকারকে বলে দিতে চাই, বাংলাদেশের কোনো আদালতের খোঁচায় কিংবা কোনো নির্বাহী আদেশের কলমের খোঁচায় তাকে বন্দি করে রাখা যাবে না, তাকে ছাড়া কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যাবে না। আমার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী হবেন বাংলাদেশের ইনশাল্লাহ। আমরা তাদের বিচার করব। ধৈর্য ধরুন। রাজপথ থাকবে আমাদের নেত্রীর নেতৃত্বে। আওয়ামী লীগ ৫০টির বেশি আসন পাবে না। : জাতীয় প্রেসকাবের সামনে সকাল ১০টা থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মী ফুটপাতে মাদুরে বসে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে প্রতীক অনশনে বসেন। এই অনশনে ব্যাপক সংখ্যাক নেতাকর্মীর উপস্থিতি পুরো এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। সড়কের কাছে দিয়ে খুব ধীরগতিতে যানবাহন চলে। : অনশনে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা মহানগরের মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জু, কাজী আবুল বাশার, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করীম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন প্রমুখ। : : : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সব দলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন দেখতে চায় ইইউ। আগামী নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে হবে বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
2878 জন