বেগুন চাষে ঝুঁকছে কৃষক
মহাদেবপুরের বেগুন যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়
Published : Friday, 16 February, 2018 at 12:00 AM
এম. সাখাওয়াত হোসেন, মহাদেবপুর (নওগাঁ) : অধিক লাভজনক হওয়ায় ধান ছেড়ে বেগুন চাষে ঝুঁকছেন নওগাঁর মহাদেবপুরের কৃষকরা। বেগুন চাষ করে একদিকে কৃষকরা যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন অন্যদিকে দেশের সবজির চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার মহাদেবপুর সদর, রাইগাঁ, চেরাগপুর ও এনায়েতপুর ইউনিয়নে গত তিন বছর ধরে বোরো মৌসুমে তাদের জমিতে বোরো ধান চাষ না করে বেগুন চাষ শুরু করেছেন। অধিক লাভজনক হওয়ায় এলাকার প্রত্যেক কৃষকই নিম্নে ৫ কাঠা থেকে সর্বোচ্চ দুই বিঘা পর্যন্ত জমিতে বেগুনের চাষ করেছেন। এসব এলাকায় মাঠে মাঠে এখন কেবল বেগুনের ক্ষেত। কৃষকরা যশোরের ইসলামপুরী এবং সাদা গুটি জাতের বেগুন চাষ করেছেন। উপজেলার নাটশাল গ্রামের হানিফ ২৫ কাঠা জমি প্রতি বছর ১৫ হাজার টাকায় ৫ বছরের জন্য লিজ নিয়ে গত তিন বছর ধরে বেগুন চাষ করে তার সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। ফটিকপুর গ্রামের নওশাদ আলী তার নিজস্ব এক বিঘা জমিতে করেছেন বেগুনের ক্ষেত। গোপালপুর গ্রামের জামাল উদ্দিন তার ১০ কাঠা জমিতে এবং নাটশাল গ্রামের একরামুল হক ১৫ কাঠা জমিতে বেগুনের চাষ করেছে। এসব বেগুন চাষীরা জানিয়েছেন, বেগুন চাষে বোরো আবাদের চেয়ে পানি কম লাগে। সার ও শ্রমিক খরচও অনেক কম। তুলনামূলকভাবে বাজারে মূল্য বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এক বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করলে সব মিলিয়ে খরচ পড়ে প্রায় ১২-১৩ হাজার টাকা। ধান পাওয়া যায় সর্বোচ্চ ১৮ থেকে ২০ মণ। প্রতি মণ ৭০০ টাকা হিসেবে উৎপাদিত ধানের বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ১৪ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ বাদ দিলে কৃষকের ঘরে লাভ তেমন কিছুই আসে না। অপরদিকে কৃষকদের বিবরণ অনুযায়ী এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করতে সর্বোচ্চ খরচ পড়ে ২৬-২৮ হাজার টাকা। সেখানে পুরো মৌসুমে তা বেগুন পাচ্ছেন প্রায় দেড়শ মণ। বর্তমান বাজার অনুযায়ী গড়ে প্রতি মণ বেগুন পাইকারি পর্যায়ে বিক্রি করছেন ৭০০ টাকা। খরচ বাদ দিয়ে কৃষকরা ৭৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার পর্যন্ত লাভ করছেন। যার ফলে যে এলাকায় কোনো দিন সবজি চাষ সম্ভব ছিল না সেখানকার কৃষকরা বেগুন চাষে এগিয়ে এসেছেন। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। আপনি কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
3907 জন