ঝুঁকি নিয়ে খুললো গার্মেন্ট
Published : Monday, 27 April, 2020 at 12:00 AM, Update: 26.04.2020 9:35:43 PM
ঝুঁকি নিয়ে খুললো গার্মেন্টদিনকাল রিপোর্ট
একদিকে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ থেকে বলা হচ্ছে কারখানা খোলার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, অন্যদিকে শ্রমিকদের গতকাল রবিবার (২৬ এপ্রিল) থেকে কারখানায় আসার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বেশ কয়েকজন কারখানা মালিক। এমন পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছেন বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমিকরা। এরই মধ্যে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় ফিরতে শুরু করছেন পোশাক শ্রমিকরা। শ্রমিকরা বলছেন, কারখানা থেকে তাদের ফোন দিয়ে আসতে বলা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে পোশাক কারখানার মালিকদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে শ্রমিকরা জানাচ্ছেন, তাদের অফিস করতে বলা হয়েছে, তাই বাধ্য হয়ে অঘোষিত লকডাউনের মধ্যে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় ফিরতে শুরু করছেন পোশাক শ্রমিকরা। চাকরি বাঁচাতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে নিজ নিজ কর্মস্থলে ছুটছেন শ্রমজীবী মানুষ। গতকাল রবিবার সকাল থেকে শিমুলিয়া ঘাটে শ্রমজীবী মানুষের ঢল দেখা গেছে। তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় শিমুলিয়া ঘাট থেকে ঢাকা বা নারায়ণগঞ্জে যেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিভিন্ন যানবাহন পাল্টে কর্মস্থলে ছুটছেন তারা। মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে শ্রমজীবী মানুষকে ফেরিতে নদী পার হতে দেখেছি। তিনটি ফেরিতে মানুষের চাপ বেশি ছিল। সব মিলিয়ে আনুমানিক দুই হাজার শ্রমজীবী মানুষ নদী পার হয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। কাঁঠালবাড়ী ঘাটে সেনাবাহিনী ও পুলিশ রয়েছে। তারা তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে ফেরিতে তুলে দিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। শিমুলিয়া ঘাটে কোনো গণপরিবহন না থাকায় বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবীরা। বেশি ভাড়ায় তারা মিশুক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন। কেউ যাচ্ছেন পিকআপ ভাড়া করে। মাওয়া ট্রাফিক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এক্সপ্রেসওয়েতে কোনো ছোট পরিবহন চলাচলের অনুমতি আমরা দেই না। তাই ছোট যানবাহনে করে অনেক রাস্তা ঘুরে তারা ঢাকার বাবুবাজারের দিকে যায়। সেখান থেকে পরিবহন পাল্টে গন্তব্যে রওনা দিয়েছেন শ্র্রমজীবীরা। এেেত্র তাদের বেশি ভাড়াও গুনতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ।’ এদিকে দিনের বেলায় দুই-তিনটি ফেরি চললেও এখন রাতের বেলায় ছয়টি ফেরি চলাচল করছে। কারণ ফেরিতে পণ্যবাহী ট্রাক পার করা হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিসি’র শিমুলিয়া ঘাটের উপমহাব্যবস্থাপক (এজিএম) শফিকুল ইসলাম বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় প্রায় ৫০০ পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান পারাপার করেছি। দিনের চেয়ে রাতেই ওসব গাড়ির চাপ বেশি থাকে। তাছাড়া এখন শিমুলিয়া ঘাট থেকে কাঁঠালবাড়ী ঘাটের উদ্দেশে যাওয়ার পরিবহন তেমন নেই। এপাশে ঘাট একেবারে ফাঁকা। দু-একটি জরুরি সেবার গাড়ি এলেই ফেরিতে তুলে দেয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে তৈরি পোশাক মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তবে শ্রমিকরা বলছেন, রবিবার থেকে ঢাকা ও আশপাশের শিল্প-কারখানা ও পোশাক কারখানা খুলবে। কাজে যোগ দিতে কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, রিকশা কিংবা ঠেলাভ্যান ভাড়া নিতে হয়েছে। কেউ কেউ হেঁটেই রওনা হয়েছে গন্তব্যের উদ্দেশে। এর আগে গত ৫ এপ্রিল থেকে পোশাক কারখানা খুলে দেয়ার খবরে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছিলেন শ্রমিকরা। ৪ এপ্রিলও রাস্তাগুলোতে শ্রমিকদের উপচেপড়া ভিড় ল করা যায়। গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে, টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে, নারায়ণগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরিতে হঠাৎ করে মানুষের ঢল নামে। এসব শ্রমিক ঢাকায় পৌঁছানোর পর রাত ১০টার দিকে বিজিএমইএ থেকে কারখানা বন্ধের ঘোষণা দেয়। এতে চরম নাজেহাল হওয়ার পাশাপাশিও অনেক শ্রমিক হয়রানির শিকার হন। অনেকেই বলছেন, পোশাক কারখানা খুলতে হলে স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে তারপর খুলতে হবে। এ প্রসঙ্গে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. জাহিদ বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানতে না পারলে কোনো কারখানা খুলতে দেয়া উচিত না। কারণ করোনা ভাইরাস ছড়ানোর েেত্র সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ পোশাক শ্রমিকরা। এদিকে পোশাক কারখানা খোলার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে গ্রাম থে?কে শ্রমিকদের ফি?রি?য়ে না আনার অনুরোধ ক?রে?ছে বিজিএমইএ। সংগঠনটির ওয়েবসাইটে সংগঠনের সদস্যদের উদ্দেশে দেয়া বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অর্থনীতি? চলমান রাখতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পোশাক কারখানা খোলা রাখার নির্দেশনা দে?বে বিজিএমইএ। সেই নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত যেসব শ্রমিক গ্রামে আছেন, তাদের ঢাকায় আসতে না বলার জন্য অনুরোধ করা হলো। পর্যায়ক্রমে এলাকাভিত্তিক পোশাক কারখানা খোলার নির্দেশনা দেয়া হবে জা?নি?য়ে বিজিএমইএ বল?ছে, শুরু?তে কারখানা সীমিত আকারে খোলা রাখা যাবে। ফলে প্রথম ধাপে কারখানার আশপাশে যেসব শ্রমিক আছেন, তাদেরই কাজে যোগদান করতে বলা যাবে। মানবিক দৃষ্টিকোণ বিবেচনায় কোনো শ্রমিক ছাঁটাই না করার অনুরোধ করে?ছে পোশাক মা?লিক?দের সংগঠন?টি। এছাড়া বিরূপ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের ঢাকায় নিয়ে আসা হলে বিজিএমইএ’র প থে?কে কোনো সহায়তা করা হ?বে না। এ বিষয়ে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, সরকার পোশাক কারখানা বন্ধ করতে বলেনি। সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে পোশাক কারখানা খোলা রাখতে বলেছে। সে কারণে আমরা মনে করছি, একসঙ্গে সব চালাতে গেলে সমস্যা হবে, তাই আমরা ভাগ ভাগ করে কারখানা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বলেন, আগামী ৪ মে থেকে দেশের সব কারখানা খোলা থাকবে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় শ্রমিক দিয়ে এসব কারখানা চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।








 










 


 





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
25085 জন